Home Blog Dr Firoz Mahboob Kamal যে ব্যর্থতা দেশগড়া ও দেশের প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে

eBooks

Latest Comments

যে ব্যর্থতা দেশগড়া ও দেশের প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে PDF Print E-mail
Dr Firoz Mahboob Kamal
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Monday, 04 May 2009 11:19
মুসলিম বিশ্বজুড়ে এখনও জেঁকে বসে আছে স্বৈরাচারি শাসন। কোথাও সেটি নির্ভেজাল রাজতন্ত্রের নামে, কোথাও সেটি সামরিক স্বৈরশাসকের নামে আবার কোথাও বা গণতন্ত্রের ছদ্দবেশে। বার বার নির্বাচন হলেই যে স্বৈরাচারি শাসনের মৃত্যু ঘটে তা নয়। হিটলারও ক্ষমতায় এসেছিল নির্বাচনে বিপুল ভোট পেয়ে। কিন্তু জনগণের ভোটে তার সে বিপুল বিজয় জার্মান জাতিকে গণতন্ত্র উপহার দেয়নি। বরং দিয়েছিল সে জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে দুঃসহনীয় স্বৈরশাসন। শেখ মুজিবও বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিল। কিন্তু তার সে বিজয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র আসেনি। বরং তার সে বিজয়ে চালু হয়েছিল একদলীয় স্বৈরশাসন এবং নিষিদ্ধ হয়েছিল সকল বেসরকারি রাজনৈতিক দল। নিষিদ্ধ হয়েছিল সকল সরকার বিরোধী পত্র-পত্রিকা। কিন্তু এরপরও মুজিব নিজেকে বড্ড গণতান্ত্রিক মনে করতেন। আর এটি শুধু অতীতের বিষয় নয়, বর্তমানের বিষয়ও। গণতন্ত্রের নামে এমন ধোকাবাজি অতীতে যেমন হয়েছে, এখনও হচ্ছে। এবং সেটি অধিকাংশ মুসলিম দেশে। ফলে সেসব দেশে নির্বাচন বার বার হলেও স্বৈরাচার বেঁচে আছে বহাল তবিয়তে। নির্বাচন ব্যবহৃত হয় নিজেদের স্বৈরাচারি শাসনের বৈধতার আদায়ের লক্ষ্যে। গণতন্ত্র এবং নির্বাচন –আজ দুর্বৃত্ত-ধনি, সামরিক বাহিনীর ক্ষমতালোভী অফিসার, রাজনৈতিক সন্ত্রাসী ও দেশী ও বিদেশী গোয়েন্দাবাহিনীর হাতে জিম্মি। এদের কারণে মহান কোন পয়গম্বরের পক্ষেও এসব দেশে নির্বাচনী বিজয় অসম্ভব। একটি স্বৈরাচারি সরকারের আচরণ নির্ণীত হয় তার আচরণ থেকে, কিভাবে নির্বাচিত হলো তা থেকে নয়।

স্বৈরাচারি শাসনের বড় কুফল হলো, এতে শুধু গদিই বিশেষ এক ব্যক্তি বা গোষ্ঠির হাতে কুক্ষিগত হয় না, কুক্ষিগত হয় দেশগড়া, দেশ-শাসন ও দেশের প্রতিরক্ষার ন্যায় অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো। জাতি তখন জিম্মি হয় কিছু ক্ষমতালোভী রাজনীতিবিদ ও বেতনভূক কর্মচারির হাতে। রাজনীতি, সমাজনীতি ও দেশের নিরাপত্তার ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তখন জনগণের কাতার থেকে উঠিয়ে প্রাসাদে নেয়া হয়। নিজেদের দখলদারি দীর্ঘায়ীত করতে তখন একের পর রচিত হয় নানা প্রাসাদ ষড়যন্ত্র। দেশের আপামর সর্বসাধারণ তখন পরিণত হয় নীরব দর্শকে। স্বৈরাচারি শাসনকালে মূল যুদ্ধটি হয় মূলতঃ বিবাদমান শাসকগোষ্ঠির। তখন দেশ গড়া ও দেশের নিরাপত্তার চেয়ে গুরুত্ব পায় তাদের নিজেদের গদির বা শাসনের নিরাপত্তা। বিগত ১৩শত বছর ধরে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ক্ষতিটি হয়েছে মূলতঃ এসব স্বৈরাচারি শাসকদের হাতে। জনগণের অর্থ কেড়ে তারা অসংখ্য প্রাসাদ, এমনকি মৃতব্যক্তির জন্য তাজমহল বানালেও জীবিত জনগণের জন্য কিছুই করে না। ফলে কালের স্রোতে তাদের প্রাসাদের ডিজাইনে পরিবর্তন আসলেও কৃষকের হালে বা তার গৃহে কোন আধুনিকতা আসেনি। ফলে ছন-কঞ্চির ঝুপড়ির ঘর, কৃষকের চাষের লাঙ্গল ও তাঁতীর তাঁতে হাজার বছরেও কোন পরিবর্তন আসেনি। আজকের বিশ্বে ১৫০ কোটি মুসলমানের পরাজয় ও পশ্চাতপদতার মূল কারণ, এই স্বৈরাচারি শাসকশ্রেণী। অথচ ইসলাম দেশগড়া ও রাজনীতির একটি ভিন্নতর ব্যাখা দেয়। রাষ্ট্রের নির্মাণে ও প্রতিরক্ষায় অংশ নেয়া ইসলামে কোন পেশাদারিত্ব নয়, সরকারি চাকুরিও নয়; এটি ফরয ইবাদত। নবীজী (সাঃ)র আমলে এমন কোন মুসলমান ছিল না যারা সে কাজে অংশ নেননি। বেঈমানি শুধু নামায-রোযা পালনে আলসেমী বা অবাধ্যতা নয়, বরং সেটির প্রকাশ ঘটে দেশ গড়া, দেশের সুশাসন, দেশের প্রতিরক্ষায় অংশ না নেওয়ার মধ্য দিয়েও। শুধু শ্রম ও অর্থদানই নয়, অনেক সময় একাজে প্রাণদানও অপরিহার্য হয়ে পড়ে। সে প্রাণদান তখন তাকে অমর জীবনের অধিকারি করে। সে তখন শহীদের মর্যাদা পায়। কোন সরকারি চাকুরি বা মন্ত্রিত্ব কি ব্যক্তিকে সে মর্যাদা দিতে পারে? এ চেতনা বলেই প্রাথমিক কালের মুষ্টিমেয় দরিদ্র মুসলমানেরা নিজেদের সহায়-সম্বল নিয়ে দেশ গড়া ও দেশের প্রতিরক্ষায় ময়দানে নেমে এসেছিলেন। কোন সরকারের মুখের দিকে তারা চেয়ে থাকেনি। নিজ উদ্যোগে তারা ঘরে ঘরে গড়ে তুলেছিল মাদ্রাসা বা শিক্ষালয়। সে আমলের দুটি বৃহৎ শক্তিকে পরাজিত করে সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতার নির্মাণ করতে পেরেছিলেন। সেসময় সরকারের দায়িত্ব ছিল জনগণকে এভাবে ময়দানে নামিয়ে আনা। অথচ পরবর্তীতে মুসলিম নামধারি স্বৈর-শাসকেরা জনগণকে প্রতিপক্ষ গণ্য করেছে। এবং সেটি শুরু উমাইয়া আমল থেকে। রাজনীতি, সামরিক প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধবিগ্রহ একমাত্র তাদের মনোপলি রূপে প্রতিষ্ঠিত করে। রাজনীতিতে সর্বসাধারণের অংশগ্রহণকে ফৌজদারী অপরাধে পরিণত করে। সন্ত্রাসী কাজকর্ম বলে আখ্যায়ীত করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেনাপ্রশিক্ষণ নেয়াকে। অথচ রাজনীতি হলো রাষ্ট্র ও জনগণের উন্নয়নের বিজ্ঞান। যে কোন বিজ্ঞানের ন্যায় জ্ঞানের এ বিশেষ শাখাতে সমৃদ্ধি আসে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে| প্রতিটি নাগরিকের এটি মৌলিক অধিকার। অথচ মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশে এটি মৃত্যুদন্ডনীয় অপরাধ। একাজ শুধু সেসব দেশের রাজাবাদশাহদের। শেখ মুজিবও এটি আইন করে নিষিদ্ধ করেছিলেন ইসলামের পক্ষের শক্তির জন্য। তিনি গদিতে বসেই দেশের ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোকে বেআইনী ঘোষিত করেছিলেন এবং ১৯৭৪-এ এসে রাষ্ট্র পরিচালনার কাজকে পরিণত করেছিলেন একমাত্র তার পরিবার ও দলের নিজস্ব বিষয়ে। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একদলীয় বাকশালী শাসন। যে কোন স্বৈরাচারীর ন্যায় তিনিও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে রাজনীতির দর্শকে পরিণত করেছিলেন। কোন টীমের নব্বই ভাগ খেলোয়াড়কে দর্শকের গ্যালারীতে বসিয়ে কোন দলই বিজয়ী হতে পারে না। তেমনি পারেনি মুজিব-আমলের বাংলাদেশ। তখন রাজনীতি পরিণত হয়েছিল লুণ্ঠনের হাতিয়ারে। ফলে নিঃস্ব হয়েছিল সরকারি তহবিল ও জনগণ। তার আমলেই বাংলাদেশ অর্জন করেছিলেন সবচেয়ে লজ্জাজনক তলবিহীন ঝুড়ির খেতাব। তার আমলে দরিদ্র মানুষ কাপড়ের অভাবে মাছ-ধরা জাল পরে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল।


দেশ-গড়ার কাজ যখন কোন দেশে আস্তাকুঁড়ে গিয়ে পড়ে তখন অসম্ভব হয়ে পড়ে সেদেশের উন্নয়ন। “তলাহীন ভিক্ষার ঝুলি”র ন্যায় এমন একটি অপমানকর খেতাব ছাড়া আর কোন গৌরবজনক খেতাব কি সেদেশের জনগণের জন্য জুটে? দেশগড়ার কাজকে সফল করতে হলে যেটি অপরিহার্য সেটি হলো জনগণকে সে কাজে ময়দানে নামিয়ে আনা। তবে প্রশ্ন হলো সেটিই বা কেমনে সম্ভব? সেটি সম্ভব জনগণের চেতনায় পরিবর্তনের মাধ্যমে। দেশ গড়ার কাজ থেকে দূরে থাকা যে নিছক দায়িত্বহীনতাই নয়, চরম অপরাধও- সেটি প্রতিটি নারী-পুরুষের মগজে বদ্ধমূল হতে হবে। এটি যে নিছক রাজনীতি বা পেশাদারী নয় বরং পবিত্র ইবাদত সেটিও প্রতিটি নাগরিকের চেতনায় দৃঢ়মূল করতে হবে। এজন্য ইসলামের হুকুম ও শিক্ষনীয় বিষয়গুলো জনগণের কাছে পৌঁছানোটা জরুরী।


আল্লাহতায়ালা একটি সভ্য ও সুন্দর সমাজ নির্মাণের গুরুদায়িত্ব দিয়ে মানুষকে এ দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। এ দায়িত্ব খেলাফতের। প্রতিটি মুসলমান তাই আল্লাহর খলিফা তথা প্রতিনিধি। প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী বা সচিব হওয়ার চেয়েও এ পদের মর্যাদা আল্লাহর দরবারে অধিক। বিচার দিনে এ কাজের হিসাব দিতে হবে প্রত্যেককে। প্রতিটি অফিস-কর্মীকে তার অফিসে কি দায়িত্ব সেটি প্রথমেই জানতে হয়, নইলে তার দায়িত্ব পালন যথার্থ হয় না। তেমনি প্রতিটি ব্যক্তিকেও জেনে নিতে হয় এ বিশ্বে, নিজ-দেশে ও নিজ সমাজে তার ভূমিকা বা কাজটি কি? পবিত্র কোরআনে পার্থিব এ জীবনটাকে বলা হয়েছে পরীক্ষাকাল। এবং পরীক্ষায় যারা সফল হবে তারাই পাবে জান্নাত। আর যে কোন পরীক্ষায় পাশ করতে হলে সে পরীক্ষায় বসে সে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রটি জানতে হয়। তাই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঠ হলো, এ জীবনে ব্যক্তির মূল ভূমিকা বা দায়িত্বটা কি সেটি জেনে নেওয়া। ব্যক্তির জীবনে তার সকল কর্মকান্ড, দায়িত্ব-পালন ও তৎপরতা সঠিক পথে শুরু হতে পারে এটুকু জানার পরই। এমন চেতনায় দেশগড়ার প্রতিটি কর্ম গণ্য হয় আমেলুস্ সালেহ বা নেককর্ম রূপে। এমন মানুষ তার নিজ-জীবনে বা রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বেচছাচারী বা অহংকারি না হয়ে বিণয়ী হয়। তখন তার প্রতিকর্মে যোগ হয় ইবাদতের জজবা।


তাই ইসলামের প্রথম শিক্ষাই হলো, এ বিশ্বে ব্যক্তির নিজস্ব সে ভূমিকাটিকে জেনে নেওয়া। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, সে মৌল পাঠটিই অধিকাংশ মুসলমানদের জানা হয়নি। মুসলিম দেশগুলির কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের বহুভাষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের বহুবিষয় শেখালেও এ মৌলিক পাঠটি শেখায়নি। ফলে দেশ ও সমাজ নির্মাণের ফরজ কাজটি ফরয রূপে গণ্য হয়নি। বরং এটি পরিণত হয়েছে গদি-দখল, আরাম-আয়েশ ও নিজস্ব জৌলুস বৃদ্ধির মাধ্যমে। তাই নামায-রোযা পালনকারিদের ভিড় মসজিদ-মাসজিদে বাড়লেও দেশগড়ার এ অঙ্গনে বাড়েনি। অথচ সে ভিড় বেড়েছিল খোলাফায়ে রাশেদার আমলে। অন্যরা না হোক, যারা ধার্মিক তাদের অন্ততঃ জানা উচিত ছিল উচচতর সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণের কাজ থেকে হাত গুটিয়ে নেয়ার অর্থ শুধু দায়িত্বহীনতা নয়, সেটি আল্লাহর নির্দেশের বিরুদ্ধে চরম অবাধ্যতা। বস্তুতঃ বাংলাদেশে রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনার সর্বস্তরে দুর্নীতিপরায়ন ব্যক্তিদের যে দৌরাত্ম সে দায়ভার এ তথাকথিত ধর্মপরায়নদেরও। সমাজের আবু-লাহাব, আবু-জেহেলের বিরুদ্ধে সে আমলের মুসলমানগণ যে আমৃত্যু যুদ্ধ করেছিলেন সেটি বাংলাদেশের ধর্ম-পরায়ন মানুষদের দ্বারা একটি দিনের জন্যও সংঘটিতই হয়নি। ফলে সমাজের দুর্বৃত্তরা অনেকটা বীনা প্রতিরোধেই সমাজ ও রাজনীতির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গন দখল করে নিয়েছে। তাছাড়া সমাজের যে কোন অঙ্গণের ন্যায় রাজনীতির ময়দানও খালি থাকে না। সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ মানুষেরা ময়দান খালি করে দিলে দুর্বৃত্তরা তখন তা সহজে দখল করে নেয়। রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও সম্পদ এভাবেই দুর্নীতিপরায়ন রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনিক কর্মচারীদের অধীনস্ত হয়। ফলে জনগণ নিঃস্ব হলেও ঐশ্বর্য বেড়েছে তাদের।


তাছাড়া দেশ গড়ার এ বিশাল ক্ষেত্রটি শুধু রাজনীতি বা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এ কাজটি করতে হয় দেশের সর্বাঙ্গ জুড়ে। শুধু রাজনীতি দিয়ে একটি সভ্যতার সমাজ নির্মিত হয় না। এ লক্ষ্যে রাজনীতিতে যেমন সৎ ও যোগ্য মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে হয় তেমনি বাড়াতে হয় দেশের শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও। সৎ মানুষকে শুধু সৎ হলে চলে না, সাহসী ও সংগ্রামীও হতে হয়। নবীজীর (সাঃ) সাহাবাগণ শুধু যে সৎ ছিলেন তা নয়, তারা অতি নির্ভীক ও লড়াকুও ছিলেন। এ যোগ্যতা বলেই দেশের রাজনীতি ও প্রশাসন থেকে দুর্বৃত্তদের হটিয়ে শাসনক্ষমতা, রাজনীতি, সমাজনীতি ও অর্থনীতি নিজেরা হাতে নিয়েছিলেন। নবীজী (সাঃ)র সে সুন্নত আজকের মুসলমানদের জন্যও অনুকরণীয়। নিছক বক্তৃতা বা উপদেশ খয়রাতে দেশ সমৃদ্ধতর হয় না, তাদেরকে এক্সিকিউটিভ ফোর্স বা পলিসি বাস্তবায়নকারী শক্তিতেও পরিণত হতে হয়। আর একাজে লড়াই অনিবার্য। লড়াইয়ের এ ময়দানে নামা প্রতিটি সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ মানুষের অংশগ্রহণ জন্য অপরিহার্য। এটিই ইসলামের মৌল শিক্ষা। ফলে নবীজী (সাঃ) যেমন নেমেছিলেন, তেমনি নেমেছিলেন তার স্থলাভিষিক্ত সাহাবায়ে কেরাম। ফলে সেদিন ধর্মপরায়নতা শুধু মসজিদে সীমাবদ্ধ থাকেনি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল।


জাতি গঠনের পূর্বে জরুরী হলো ব্যক্তি গঠন। দালান-নির্মাণের পূর্বে ইট তৈরির ন্যায় এটি অপরিহার্য। আর ব্যক্তির নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নিছক জ্ঞান ও শারীরিক সুস্থ্যতা নয়, বরং সবচেয়ে অপরিহার্য হলো তার বিশ্বাস বা দর্শন। ব্যক্তি জীবনে বিপ্লব আসে সে বিশ্বাস বা দর্শন থেকেই। বিশ্বাস বা দর্শন পাল্টে গেলে পাল্টে যায় বক্তির আচরণ, কর্ম ও ব্যক্তিত্ব। যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর পথে অর্থ দেয় ও প্রাণ দেয়, কাফের থেকে তার মূল পার্থক্যটি দৈহীক নয়, বরং ঈমানী। ঈমান বা বিশ্বাসের গুণেই মিথ্যুক পরিণত হয় সত্যবাদী ব্যক্তিতে। এবং অতিশয় মুর্খ ব্যক্তিও পরিণত হয় জ্ঞানী-ব্যক্তিতে। নবীজী (সাঃ) মূলতঃ সে দর্শন বা ঈমানে পরিবর্তন এনেছিলেন। আর সে দর্শন বা বিশ্বাসের নির্মানে মূল উপাদান হলো জ্ঞান। আর সে জ্ঞানের সর্বশ্রেষ্ঠ ভান্ডার হলো আল-কোরআন। তাই ইসলামে সে জ্ঞানার্জনকে প্রতিটি নর-নারীর উপর ফরয করা হয়েছে। এ ফরযটি আদায় না হলে ইসলামের অন্যান্য ফরযগুলো সঠিক ভাবে আদায় হয় না। অথচ বাংলাদেশের ন্যায় দেশের বড় সমস্যা হলো সে জ্ঞানার্জনের ফরযটিই আদায় হয়নি। ফলে বাড়েনি সে বিশ্বাস বা জীবন দর্শন বা ঈমান। ফলে বাড়েনি দেশগড়ার ন্যায় ইবাদতে জনগণের সম্পৃক্ততা। বাড়েনি চরিত্রবান লোকের সংখ্যা।


হযরত আলী (রাঃ)একটি অতিশয় মূল্যবান কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব তার জিহধ্বায়। অর্থাৎ‌ সত্যবাদিতায়। যার জিহবা বা কথা বক্র তার চরিত্রও বক্র। সুদর্শন ও সুঠাম দেহের অধিকারী হয়েও তার ব্যক্তিত্ব পঙ্গু। ভাল মানুষ হিসেবে সে সমাজে পরিচিতি পেতে পারে না। বক্র ইট যেমন একটি ভাল প্রাসাদ নির্মিত হতে পারে না তেমনি মিথ্যাচারী মানুষ দিয়ে একটি সভ্য ও উন্নততর সমাজ নির্মিত হয় না। এমন অসৎ ও মিথ্যাচারী মানুষের ভীড়ে একটি জাতির অস্তিত্বই বিপন্ন হয়। গরু-মহিষের সংখ্যা বৃদ্ধিতে একটি জাতি বরং লাভবানই হয়। কিন্তু প্রচন্ড ক্ষতি মিথ্যাচারী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধিতে। তাতে বরং দেশে ধ্বংস নেমে আসে। প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ বা নৈসর্গিক পরিবেশও সে জাতির কোন কল্যাণই করতে পারে না। বাংলাদেশের বিপন্নতা বস্তুতঃ মিথ্যাচারী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধিতে, সম্পদের অপ্রতুলতায় নয়। ভুগোল, জলবায়ু বা জনসংখ্যার কারণেও নয়। জাতিকে সদাচারী ও সত্যবাদী বানানোর দায়িত্ব দেশের আলেম বা বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের। তারাই জাতির সুস্থ্য সংস্কৃতির নির্মাতা। তারা সংস্কার আনে ব্যক্তির আচরণ ও রুচীবোধে। অতি প্রতিকুল অবস্থাতেও সত্য কথা বলার জন্য যে মনোবল দরকার সেটির জোগান দেয় তারাই। তারাই সমাজের মিথ্যুক ও দুশ্চরিত্রদের বাঁচাটা নিরানন্দ করে দেয়। সম্পদের অধিকারী হয়েও দুর্বৃত্তরা সমাজে নন্দিত না হয়ে প্রচন্ড নিন্দিত হয় বস্তুতঃ এদের কারণেই। নমরুদ, ফিরাউন, হালাকু বা হিটলারগণ ইতিহাসে যে আজও ঘৃণিত তা এসব ন্যায়পরায়ন বুদ্ধিজীবীদের কারণেই। কিন্তু বাংলাদেশের ন্যায় মুসলিম দেশে সে কাজটিই হয়নি। সমাজে আজ যে মূল্যবোধের প্রচন্ড অবক্ষয় সেটিই প্রমাণ দেয়, বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীরা মানবিক মূল্যবোধের নির্মাণে কতটা ব্যর্থ। শিক্ষা ও সাহিত্যের ময়দান থেকে মানুষ একটি সমৃদ্ধ চেতনা পাবে, উন্নত মূল্যবোধ নির্মিত হবে এবং তা থেকে সমাজ একটি সভ্যতর স্তরে পৌঁছবার সামর্থ পাবে, -সেটিই কাঙ্খিত ছিল। কিন্তু তা হয়নি। বরং তারাই জন্ম দিয়েছেন বর্তমান অবক্ষয়ের। বস্তুতঃ তাদের কারণেই বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজই সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সমাজ। তাদের সাথে যাদেরই সাহচর্য বেড়েছে তারাই রোগগ্রস্ত হয়েছে চৈতন্যে, চরিত্রে ও মূল্যবোধে। আমাদের বুদ্ধিজীবীদের এ ব্যর্থতার বড় কারণ, তাদের অধিকাংশই কোন না কোন মিথ্যাচারী নেতার রাজনৈতিক শ্রমিক। সমাজে মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠার চেয়ে এসব নেতাদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠাই তাদের মূল লক্ষ্য। নেতাদের মিথ্যাচার ও চারিত্রিক কদর্যতাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে অন্যদের দেখিয়ে দেয়ার পরিবর্তে সে মিথ্যাচারের প্রচারে তারা স্বেচ্ছা-শ্রমিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। আমাদের রাজনৈতিকগণ কতটা মিথ্যাচারী এবং আমাদের বুদ্ধিজীবীরা সে মিথ্যা প্রচারে কতটা বিবেকবর্জিত তার সবচেয়ে চোখা ধাঁধানো নজির শেখ মুজিবের ৩০ লাখের তথ্য। আমাদের বুদ্ধিজীবীদের দুষ্কর্ম তুলে ধরার জন্য এ বিষয়টি একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যে কোন ধর্ম ও যে কোন মূল্যবোধই মানুষকে সত্যবাদী হতে শেখায়। এমনকি চরম শত্রুর বিরুদ্ধেও। খুনের আসামীর বিরুদ্ধেও আদালতে মিথ্যা বলার অধিকার কোন আইনই কাউকে দেয়না। একজন ব্যক্তির মিথ্যুক হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, কারো সাথে শত্রুতা শুরু হলেই সে তার চরিত্র-হনন ও তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলা শুরু করে। নিজের বন্ধুদের সামনে এমন ব্যক্তির ফেরেশতা সাজাতে তার সে চারিত্রিক ভ্রষ্টতা দূর হয় না।


মিথ্যার প্রতি আসক্তিই ব্যক্তির ঈমান, চেতনা ও চরিত্রের একটি সঠিক পরিমাপ দেয়। এ পরিমাপে শেখ মুজিবই শুধু নয়, তার অনুগত বুদ্ধিজীবীরাও সদাচারী প্রমাণিত হননি। শেখ মুজিব কোনরূপ জরিপ না করেই বললেন, একাত্তরে ৩০ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। সে সময় বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি। অর্থাৎ ৭৫ মিলিয়ন। ৭৫ মিলিয়নের মধ্যে ৩০ লাখ বা তিন মিলয়ন নিহত হলে প্রতি ২৫ জনে একজন নিহত হতে হয়। স্কুলের ছাত্ররা এ হিসাব বুঝে। যে গ্রামের প্রতি বাড়িতে গড়ে ৫ জনের বাস সে গ্রামে প্রতি ৫ বাড়িতে একজনকে নিহত হতে হয়। অতএব যে গ্রামে ১০০ ঘর আবাদী সেখানে কমপক্ষে ২০ জনকে প্রাণ দিতে হয়। সে গ্রামে যদি কেউই মারা না যান তবে পাশের সমান বসতিপূর্ণ গ্রামে ১০০ ঘরে ৪০ জনকে নিহত হতে হবে। নইলে ৩০ লাখের হিসাব মিলবে না। বাংলাদেশে যাদের বাস তারা শেখ মুজিবের এ মিথ্যা তথ্য বুঝলেও বুদ্ধিজীবীদের অধিকাংশই সেটি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, আদালতের উকিল বা পত্রিকার কলামিস্ট হয়েও এখনও সে কথা নির্দ্বিধায় বলেন। মিথ্যাচারী হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, কোন কথা শুনা মাত্র তার সত্যাসত্য বিচার না করেই সে বলে বেড়াবে। যত তিক্তই হোক আমাদের বুদ্ধিজীবীদের মিথ্যাচারীতা প্রমাণের জন্য এ বিষয়টি একটি মজবুত দলিল। আমাদের রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের চরিত্র বিধধ্বংসী এ মিথ্যা প্রবণতা দূর করতে হলে বিদ্যাচর্চায় সততা ও স্বচছতা আনতেই হবে। মিথ্যাচারিতা মহাপাপ। বস্তুতঃ সব পাপের জন্ম এ পাপ থেকেই। নবীজী (সাঃ) ব্যাভিচার, চৌর্যকর্ম ও মিথ্যাচারে লিপ্ত এক ব্যক্তিকে চারিত্রিক পরিশুদ্ধির জন্য প্রথমে যে পাপ কর্মটি পরিত্যাগ করতে উপদেশ দিয়েছিলেন সেটি হলো মিথ্যাচার। নানা পাপের বেড়াজাল থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদেরও মিথ্যা চর্চা বর্জন করতে হবে। ফলে আমাদের জাতীয় পুনর্গঠনে প্রথমে যে কাজটি শুরু করতে হবে সেটি মিথ্যাচারী রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তি পরিত্যাগের মধ্য দিয়ে। মিথ্যা ও মিথ্যাচারীদের দূরে হঠাতে পারলে অন্য সব পাপাচার এমনিতেই দূর হবে। নইলে সমাজের দুর্বৃত্ত মিথ্যাচারিরা যে শুধু দেশের নেতা, মন্ত্রী বা বুদ্ধিজীবী রূপে প্রতিষ্ঠা পাবে তা নয়, জাতির পিতা হওয়ারও স্বপ্ন দেখবে। কারণ সেটিই স্বাভাবিক। যুগে যুগে সেটিই ঘটেছে। মিথ্যাচারিতা দেশে প্রাধান্য পেলে ফেরাউনরা শুধু রাজা নয়, জাতির পিতা বা খোদা রূপেও প্রতিষ্ঠা পায়। এটিই ইতিহাসের শিক্ষা। তাই সব-যুগের ফেরাউনেরাই মিথ্যাকে প্রচন্ড গণমুখিতা দিয়েছে। আর সে কাজে শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করেছে সে সমাজের বুদ্ধিজীবীদের। কারণ, মিথ্যাচার প্রসারে তাদের ন্যায় কার্যকর শক্তি আর নেই। এজন্যই মধ্যযুগের স্বৈরাচারী রাজাদের দরবারে বহু গৃহপালিত সভাকবি থাকতো। বাংলাদেশেও এমন সত্য-বিবর্জিত গৃহপালিত বুদ্ধিজীবীদের সংখ্যা অনেক। তাছাড়া তাদের উপর দেশটির চিহ্নিত শত্রুদের পুঁজি নিয়োগ হয়েছে বিস্তুর। তাই বাংলাদেশকে গড়তে হলে বুদ্ধিবৃত্তির মিথ্যাচারিতা বন্ধ করতে হবে। ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে মৃত্যু ঘটে দেহের জীবকোষের, কিন্তু মিথ্যা-চারিতায় মৃত্যু ঘটে বিবেকের। ফলে যক্ষা, কলেরা, টাইফয়েডের মহামারীতে বাংলাদেশের ততটা ক্ষতি হয়নি যতটা হয়েছে মিথ্যাচারিতার ব্যাপ্তিতে। দুর্নীতিতে বিশ্বে প্রথম হওয়ার মূল কারণ এটিই।


মিথ্যাচারিতার যে বীজ আমাদের রাজনৈতিক নেতা ও বুদ্ধিজীবীদের দ্বারা প্রোথিত হয়েছিল তা এখন পরিণত হয়েছে প্রকান্ড মহিরুহে। মিথ্যার ফসল যে পাপাচার ও দুর্নীতি, বাংলাদেশ আজ তা নিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে শিক্ষনীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। নৈতিকতার ক্ষেত্রে জাতিকে সেটি তলাশূন্য করেছে। এ রোগ আমাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকেই বিপন্ন করছে। মুসলমান হওয়ার অর্থই হলো সে সত্যের পক্ষে সাক্ষী দিবে এবং মিথ্যার মুখ উন্মোচিত করবে। এটি আমাদের ধর্মীয় দায়বদ্ধতা। কিন্তু সে কাজটিই যথাযথভাবে হয়নি। মিথ্যার সামনে নীরবতা ও সদাচারিতা থেকে এ বিচ্যুতি একটি জাতিকে কখনই সাফল্য দিতে পারে না। শুধু দেশ গড়াই নয়, মুসলমান হওয়ার জন্যও বস্তুতঃ সত্য-চর্চার বিকল্প নেই। সত্য প্রতিষ্ঠা পেলে মিথ্যা দুরীভূত হবেই। যেমন অন্ধকার অপসারিত হয় আলোর আগমনে। কোরআনে তাই বলা হয়েছে, “সত্য সমাগত, মিথ্যা দূর হবেই।” আর সত্যের সে আলো জ্বালানোর দায়িত্ব নিতে হবে প্রতিটি মুসলমানকে। এ কাজের জন্যই তারা আল্লাহর খলিফা ও রাসুলের (সাঃ)উত্তরাধিকারি। আর এজন্য অতি জরুরী হলো ইসলামের জ্ঞানার্জন। অজ্ঞদের দ্বারা এমন কাজ দূরে থাক, সাধারণ ধর্মকর্মও সঠিক ভাবে অসম্ভব। তখন গড়ে উঠে না ধর্মীয় দায়িত্ববোধও। গবাদী পশুর কাছে ঘাস খাওয়ার চেয়ে গরুত্বপূর্ণ কোন কাজ নেই। তেমনি ইসলামে অজ্ঞ ব্যক্তির কাছে রুজী-রোজগার নিয়ে ব্যস্তু থাকার চেয়ে কোন বড় কাজ নেই। সমাজ ও রাষ্ট্র ডুবতে বসলেও গরু ঘাস খাওয়ায় বিরতি দেয় না, এমন ব্যক্তিও তেমনি রাজনীতির ময়দানে নামে না। দেশের স্বাধীনতা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও শিক্ষা শত্রুর হামলার মুখে পড়লেও এমন ব্যক্তিরা তাই প্রতিরক্ষায় নামে না। ভাবে এটি রাজনৈতিক নেতা ও বেতনভোগী সৈনিকদের কাজ। তাই এরা যেমন ১৭৫৭-তে নামেনি, আগামীতেও নামবে না। কারণ ইসলামে অজ্ঞ মানুষদের পক্ষে এমন দায়িত্বহীন হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই মুসলমানদের উপর শুধু নামাযী হওয়াটি ফরয নয়, ফরয হলো জ্ঞানী হওয়াটাও। এবং মহাপাপ হলো অজ্ঞ থাকা। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রকৃত কাজের শুরু করতে হবে মূলতঃ এখান থেকেই। কোরআনের প্রথম আয়াতটি নাযিল হয়েছিল বস্তুতঃ সে নির্দেশটি দিয়েই। আল্লাহর রাসূল রূপে নবীজী(সাঃও ইসলামকে বিজয়ী করার কাজটি শুরু করেছিলেন এখান থেকে। মুসলমানদের জন্য আজও এটিই অনুকরণীয়।নইলে আল্লাহর দরবারে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে বিদ্রোহী রূপে। আর এমন বিদ্রোহী কি কখনও আল্লাহর দরবারে করুণা পোতে পারে? অথচ আজ মুসলিম বিশ্বজুড়ে সে বিদ্রোহই প্রকান্ড ভাবে হচ্ছে। এবং তার প্রকান্ড রূপ আজকের বাংলাদেশে। এমন বিদ্রোহ যে পরাজয়, অপমান আর আযাবকেই আরো ভয়ংকর করবে তা নিয়ে কি বিন্দুমাত্র সন্দেহ আছে?
 

Comments  

 
0 # 2008-11-14 07:07

Dear uncle, Salam, i have seen this article from you in nayadiganta also, but in an abridged form, may be the newspaper only printed some portion of your writings. Anyway, thanks for the article and all PRAISE TO ALLAH. earlier I visited your website and read almost all the articles; your articles made a one-stop platform to know about many truth; so please send your website links to other people and big Muslim groups of Bangladesh and the world also. Previously I had no knowledge that I could give comment in beneath of every writing; now I am happy to give my comment.
May Allah increase your writing power to inform us other unknown things.

Reply | Reply with quote | Quote
 

Add comment


Security code
Refresh