Home EBooks দুই পলাশী দুই মীরজাফর

eBooks

Latest Comments

দুই পলাশী দুই মীরজাফর
অধ্যায় ৯: পাকিস্তান প্রস্তাব ও মুসলমানদের নবযাত্রা Print E-mail
Written by কে এম আমিনুল হক   
Saturday, 15 August 2009 00:19

পাকিস্তান প্রস্তাব ও মুসলমানদের নবযাত্রা

হিন্দুদের বৈরিতা ও সংঘাতপূর্ণ ঘটনা প্রবাহের মধ্যে মুসলমানদের চেতনায় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই ঐক্যবদ্ধ চেতনাই ১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তান প্রস্তাব হিসেবে প্রকাশ পায়। লাহোরে অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় মুসলিম সম্মেলনে শেরে বাংলা ফজলুল হক এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই প্রস্তাবের তৃতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয় : ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী সীমানা সুসামঞ্জস্য করে এ সকল অঞ্চল এমনভাবে নির্দিষ্ট করতে হবে যাতে ভারতের উত্তর পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের যে সকল স্থানে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ সেই সকল অঞ্চলসমূহকে যেন স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করা যায় এবং এই রাষ্ট্র গঠনকারী অংশসমূহ স্বায়ত্ব শাসিত ও সার্বভৌম হবে।

 
অধ্যায় ১০: বিভাগোত্তর পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা Print E-mail
Written by কে এম আমিনুল হক   
Saturday, 15 August 2009 00:20

বিভাগোত্তর পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা

তৎকালীন বিভাগোত্তর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কি দারুণ সংকটের মধ্যে ছিল সেটা কুম্যুনিষ্টদের একটি গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত এবং উত্তেরাধিকার সূত্রে পূর্ব পাকিস্তানের ভাগে কি প্রাপ্তিযোগ হয়েছিল তা ভারত বর্ষ তথা বাঙ্গালা বিভক্তির পর তৎকালীন পাকিস্তানের পূর্ববঙ্গ প্রদেশ (বর্তমান বাংলাদেশ) সে সময় (১৯৪৭) কি-কি ভাগে পেয়েছিল তার একটি মোটামুটি ধারণা অবশ্যই শ্রমিক শ্রেণীর জানা থাকা দরকার। পূর্ববঙ্গ পেয়েছিল ৪ কোটি ২০ লক্ষ জনসংখ্যা অধ্যুষিত ৫৪,৫০১ বর্গমাইল এলাকা। আর এজনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশই ছিলেন আধা-সর্বহারা বা সর্বহারা। এখানকার অধিকাংশ জমিদারই ছিলেন হিন্দু-সম্প্রদায়ের। ধনশালী আর সম্পদশালী ছিলেন তাঁরাই। পূর্ববঙ্গের বড় ব্যবসায়ী ও মহাজন প্রায় সবই হিন্দু-সম্প্রদায়েরই ছিলেন। তাঁদের বৃহৎ অংশই অর্থাৎ ধন-সম্পদশালীদের প্রায় সবই যা কিছু গড়েছিলেন বা বিনিয়োগ করেছিলেন তার প্রায় সবই কলিকাতা ও হুগলী ভিত্তিক এবং বাঙ্গালা বিভক্তির পর তাঁরা পূর্ববঙ্গ ছেড়ে চলে যাওয়ার ফলে তাদের পূঁজি-সঞ্চিত অর্থসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী সবই ভারতে চলে যায়। জ্ঞান চক্রবর্তী তাঁর “ঢাকা জেলার কমিউনিস্ট আন্দোলনের অতীত যুগ” বইয়ের ১৩১ পৃষ্ঠায় বলেছেন,

 
অধ্যায় ১২: যুক্ত ফ্রন্ট গঠনের নেপথ্যে Print E-mail
Written by কে এম আমিনুল হক   
Saturday, 15 August 2009 00:22

যুক্ত ফ্রন্ট গঠনের নেপথ্যে
প্রায় ২শ’ বছর বৃটিশ হিন্দুর যৌথ ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত হয়ে সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত পূর্ববাংলার মানুষ আবেগপ্রবণ হয়ে উঠে। যৌক্তিক মানসিকতাকে উন্মাদনা ঘিরে ধরে। আর উন্মাদনা সৃষ্টির জন্য কোন নীতি অথবা কৌশলের প্রয়োজন পড়ে না। আবেগময় বক্তব্য, ভিত্তিহীন গুজব এবং অকল্পনীয় মিথ্যাচারই এর জন্য যথেষ্ট। এসবের অনুশীলন শুরু হয় পাকিস্তান সৃষ্টির প্রথম প্রভাত থেকে। দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কমিউনিস্ট কর্মীরা এ কারণেই এ জাতির আবেগ নিয়ে খেলবার সুযোগ পায়।

দেশপ্রেমিক ইসলামী শক্তি ভাষা আন্দোলনের সূচনা করলেও আন্দোলনের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে এর নিয়ন্ত্রণ এসে পড়ে কমিউনিষ্টদের হাতে। তৎকালীন হিন্দুস্থানে কমিউনিস্টদের উপর দলন পীড়ন অব্যাহত থাকলেও দিল্লী পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিষ্টদের পৃষ্ঠপোষকতা দান করে শুধুমাত্র পাকিস্তানকে ধ্বংস করার জন্য। কমিউনিষ্ট নেতৃত্বের মূলে হিন্দু নেতৃবৃন্দ থাকার কারণে হিন্দুস্থানী সাহায্য অবারিত হয়েছিল। ভাষা আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায়ে তারা রাজনীতি এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পুরোমাত্রায় সক্রিয় হয়ে উঠে। প্রথমতঃ তারা বাঙালী জাতীয়তাবাদ কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক ধারার সূচনা করল পাকিস্তান থেকে বাংলাভাষীদের মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে। দ্বিতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মুসলিম লীগকে পরাজিত করে রাজনৈতিক শক্তিকে দুর্বল করতে চাইল। নির্বাচনকে সামনে রেখে নেপথ্য থেকে তারা মুসলিম লীগ বিরোধী ফ্রন্ট গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করল। ‘এ পরিস্থিতিতে কমিউনিস্ট পার্টির সম্মুখে নতুন কর্তব্য এসে হাজির হল। কারণ যুক্তফ্রন্ট গঠনের নেপথ্যে মূল কাজটি সম্পাদন করে যাচ্ছিল কমিউনিষ্ট পার্টি। প্রকাশ্য রাজনীতিতে কার্যত নিষিদ্ধ এই পার্টি যুক্তফ্রন্ট গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করে তার মতাদর্শ প্রভাবিত ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন গণতন্ত্রী দল ও আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে কর্মরত শুভানুধ্যায়ীদের দ্বারা।' (মোহাম্মদ হান্নান : বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস, পৃঃ ২৫)

 
অধ্যায় ১৪: মুজিবের প্রতারণার ফাঁদে ইয়াহিয়া Print E-mail
Written by কে এম আমিনুল হক   
Saturday, 15 August 2009 00:24
মুজিবের প্রতারণার ফাঁদে ইয়াহিয়া
পাকিস্তান আন্দোলন চলা কালে মাওলানা ভাসানী তার প্রিয় নেতা এবং সর্বভারতীয় মুসলিম জনগণের প্রাণ প্রিয় নেতা কায়েদে আযম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর সাথে সাক্ষাত করতে যান। যখন তিনি কায়দে আযমের মুখোমুখি হলেন তখন গভীর আবেগে ডুকরে কেঁদে ফেললেন। তিনি কায়েদে আযমকে বাংলার অসহায় মুসলমানদের ভবিষ্যতের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করার জন্য অনুরোধ করলেন। কায়েদে আযম তাকে আশ্বাস দিয়ে বিদায় দিলেন। তখন সম্ভবত চৌধুরী মুহাম্মদ আলী পাশে ছিলেন, তাকে কায়েদে আযম বললেন- এই আবেগ প্রবণ মানুষটা থেকে সাবধান থাকবেন। আবেগ তাড়িত হয়ে এই লোকটা এমন কিছু করতে পারে যা জাতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। পাকিস্তান আন্দোলনের অন্যতম নেতা মাওলানা ভাসানীর ব্যাপারে কায়েদে আযমের মন্তব্য একেবারে অমূলক ছিলো না। আবেগ তাড়িত হয়ে তাৎক্ষণিক যা কিছু দরকার তিনি তাই করেছেন ভবিষ্যতের ভাবনা না ভেবেই।

ভারত বিভাগের পর পাকিস্তানের প্রাথমিক পর্যায়ে মুসলিম লীগের নেতৃত্বের মধ্যে জনগণের মুক্তির সম্ভাবনা না দেখে তিনি তৎকালিন নেতৃত্বের প্রতি বিরূপ হয়ে মুসলিম লীগ ত্যাগ করে প্রথমত আওয়ামী লীগ, পরবর্তীতে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করেন। দেশপ্রেম এবং রাজনৈতিক আন্তরিকতা থাকা সত্ত্বেও তার ছিল সীমাবদ্ধতা। এই সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি আঁচ করতে পারেননি কমিউনিজমের অনিবার্য পরিণতি। সম্ভবত গরীব ও খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য কমিউনিজমের মানবিক আবেগ তাকে আকর্ষণ করেছিল। উপমহাদেশের হিন্দু নেতৃবৃন্দের পরিচালিত কমিউনিস্ট পার্টির পাকিস্তান কেন্দ্রিক ষড়যন্ত্রের গভীরতাও তিনি সময়মত বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তিনি বুঝেননি আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদের অন্তিম ঠিকানা। এ কারণে একজন খাঁটি মুসলমান হয়েও আঞ্চলিকাতাবাদী ও কমিউনিস্টদের প্রেরণা এবং পৃষ্ঠপোষকে পরিণত হয়েছিলেন।
 
অধ্যায় ১৬: গনেশ উল্টে দে মা লুটেপুটে খাই Print E-mail
Written by কে এম আমিনুল হক   
Saturday, 15 August 2009 00:26
গনেশ উল্টে দে মা লুটেপুটে খাই
দক্ষ নটদের মত সুনিপুণ অভিনয়ের মাধ্যমে রাজনীতির দৌড়ে শেখ মুজিব ও তার দল প্রকৃত দেশ-প্রেমিকদের পিছু হটিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল, বললে ভুল হবে, দেশ-প্রেমিক দল নেতা কর্মী ও জনগণকে রাজনীতির ময়দান থেকে বিতাড়তি করেছিল। এরপর শূন্য ময়দানে মার্চের শুরু থেকে লুটপাট এবং সন্ত্রাসের মহড়া চলতে থাকে। অনেক টালবাহানা, অনেক আবেগ আর উত্তাপ ছড়িয়ে শেখ মুজিব গনেশ উল্টে দিলেন। পরিকল্পিতভাবে ঝড় ডেকে এনেছিলেন শেখ মুজিব। বাংলার মানুষকে রক্তাক্ত মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে আত্মসমর্পন করেছিলেন। তার অনুগামীরা যারা চেয়েছিল ‘গনেশ উল্টে দে মা’ তারা শুরু করেছিল লুট। ভয়াবহ লুণ্ঠনের নেশা আওয়ামী নেতা কর্মীদের গ্রাস করেছিল। লূণ্ঠন আর ভোগ বিলাসের দৃষ্টান্ত একজন মুক্তি যোদ্ধা পরবর্তীতে রাষ্ট্রদূত লেঃ কর্নেল শরীফুল হক ডালিম তার গ্রন্থে (যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি) লিখেছেন- ‘তারা কোলকাতায় বেশ আরাম আয়েশেই সময় কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু ক্রমান্বয়ে তাদের অসৎ উপায়ে লুটপাট করার কথা প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছিল, এতে তাদের সম্মানেরই শুধু হানি হচ্ছিল তা নয়, তাদের অনেকেরই প্রতি বিক্ষুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। তারা যেখানে অনাহারে অস্ত্রহীন বস্ত্রহীন অবস্থায় দেশকে স্বাধীন করার জন্য জীবন বাজি রেখে রণাঙ্গনে লড়ছেন তখন এ সমস্ত অসৎ রাজনীতিবিদ ও লুটেরার দল লুটপাটের বেশুমার টাকায় বিলাসী জীবন যাপন করে বাঙালিদের বদনাম করছিলেন অতি নির্লজ্জভাবে। কোটি কোটি টাকা তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান থেকে লুটে আনা হয়েছিল। শুধুমাত্র বগুড়ার স্টেট ব্যাংক থেকে লুট করা হয়েছিল ৫৬ কোটি টাকার উপর। এ সমস্ত লুটপাটের সাথে জড়িত ছিল রাজনৈতিক নেতা এবং আমলাদের একটি অংশ।
 
অধ্যায় ১১: ভাষা আন্দোলন একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র Print E-mail
Written by কে এম আমিনুল হক   
Saturday, 15 August 2009 00:21

ভাষা আন্দোলন একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র

পঞ্চাশ দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যেটা ঘটেছিল সেটা হলো ৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। সময়ের দাবীর প্রেক্ষিতে আন্দোলন, আইন-শৃংখলার অবনতি, প্রশাসনের সাথে সংঘাত, গুলী বর্ষণ, খুন জখম, আন্দোলনের সাফল্য অথবা ব্যর্থতা তৃতীয় বিশ্বের রাজনীতির চলমান ঘটনা প্রবাহ। কিন্তু ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য ঘটনা প্রবাহের মধ্য মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে। অন্য সব আন্দোলনের দাবী স্বীকৃত হলে প্রেক্ষিত গৌণ হয়ে পড়ে। কিন্তু ভাষা আন্দোলনে সেটা হয়নি। হিন্দু এবং বৃটিশ বেনিয়াচক্রের যৌথ ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত জাতিসত্তার বিভাজন হয়েছিল। ভাষা আন্দোলনে ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে ভাষার দাবী স্বীকৃত হলেও ভাষা আন্দোলন কেন্দ্রিক যে ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হয়েছিল সেটা ৫৪ সালে মুসলিম লীগ সরকারের পতন ঘটিয়েছিল। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করেছিল এবং প্রশাসনকে দুর্বল করেছিল। এর ধারাবাহিকতার মধ্যদিয়ে বৈরীতা তুঙ্গে উঠেছিল, গণ বিদ্রোহ সূচিত হয়েছিল, অসহিষ্ণুতার সূচনা হয়েছিল, উগ্র আঞ্চলিকতার বিকাশ হয়েছিল এবং জঙ্গী মনোভাব এবং অস্থিরতা বেড়ে গিয়েছিল। যা থেকে আজো জাতির নিষ্কৃতি মিলেনি। একারণে ভাষা আন্দোলন বৃটিশ পরবর্তী উপমহাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

 
অধ্যায় ১৩: বিচ্ছিন্নতাবাদে বিদেশী ইন্ধন Print E-mail
Written by কে এম আমিনুল হক   
Saturday, 15 August 2009 00:23
বিচ্ছিন্নতাবাদে বিদেশী ইন্ধন
১৯৬৫ সালে সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রার্থী কায়েদে আযমের বোন মিস ফাতেমা জিন্নাহর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট আইয়ুবের বিজয় যেমন আইয়ুব খানকে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর করেছিল অনুরূপভাবে বিরোধী দলকে ঘিরে ধরেছিল নৈরাশ্য। বিরোধী দলের ব্যর্থতার মূল কারণ হিসেবে তারা মনে করতে শুরু করল আইয়ুব খানের প্রচলিত মৌলিক গণতন্ত্রকে। নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য তাদের ক্ষোভ মৌলিক গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত হল। ওদিকে আইয়ুব খানের সাফল্য তাকে এতই অভিভূত করে ফেলেছিল যে আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর দৃষ্টিপাত করার কোন প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলেন না। বৈদেশিক নীতিকে সুসংহত করার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদচারণা শুরু করলেন। এ সময় প্রেডিডেন্ট আইয়ুব একসাথে পিকিং, মস্কো, ওয়াশিংটন সফরের পকিল্পনা নেন। সাফল্যের সাথে এবং ব্যাপক প্রচারণার মধ্য দিয়ে পিকিং ও মস্কো সফর সম্পন্ন হলেও প্রেসিডেন্ট নিক্সন প্রেসিডেন্ট আইয়ুবের ওয়াশিংটন সফর কর্মসূচী অসৌজন্য-মূলকভাবে বাতিল করে দেওয়ায় এতে দেশে বিদেশে আইয়ুবের মর্যাদা বৃদ্ধিই পেয়েছিল। প্রেসিডেন্ট আইয়ুবের ওয়াশিংটন সফর কর্মসূচী অসৌজন্যমূলকভাবে বাতিল করে দিলে পর এতে দেশে বিদেশে আইয়ুবের ব্যাপারে ওয়াশিংটন নিরুত্তাপ হয়ে পড়ে। ওয়াশিংটনের সাথে পাকিস্তান সরকারের সম্পর্কের জেল্লা হারালেও বিরোধী দলের সাথে সিআইএর সখ্যতা বৃদ্ধি পায়। প্রেসিডেন্ট আইয়ুবের রাজনৈতিক বিপর্যয় ত্বরান্বিত করার জন্য সিআইএ তৎপর হয়ে উঠে। ‘১৯৬৩ সালেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ঘোষণা করেন যে, পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত মার্কিনী সাহায্য হইতে পূর্ব পাকিস্তানের অংশ পূর্বাহ্নেই নির্দিষ্ট করিয়া দেওয়া হইবে। ইহার ফলে পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের চাইতে ওয়াশিংটনকে অধিকতর সহানুভূতিশীল মনে করিবার ইন্ধন পাইয়া গেল। সুকৌশলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানী জনতাকে উস্কানী দান করাই ছিল উপরোক্ত মন্তব্যের লক্ষ্য।... কেন্দ্রীয় সরকারকে বেকায়দায় ফেলিবার জন্য মার্কিন সরকার নানাভাবে প্রচেষ্টা চালাইতে থাকে। (অলি আহাদ, জাতীয় রাজনীতি, পৃঃ ৩৩)
 
অধ্যায় ১৫: বৈষম্য দূরীকরণে ইয়াহিয়ার উদ্যোগ Print E-mail
Written by কে এম আমিনুল হক   
Saturday, 15 August 2009 00:25
বৈষম্য দূরীকরণে ইয়াহিয়ার উদ্যোগ
ক্ষমতাসীন হওয়ার পরই সামাজিক সুবিচারের প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া কিছু অঙ্গীকার করেছিলেন। হয়তোবা সেটা ছিল তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক প্রয়োজনে। জি ডব্লিউ চৌধুরীর অখণ্ড পাকিস্তানের শেষ দিনগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী যেমন তিনি বলে ছিলেন, ‘পরিকল্পিত সামাজিক ইনসাফের দাবি করে পৃথক করা যায় না। যে বিরাট ব্যবধান সমাজের নানা অংশকে পৃথক করে রেখেছে তাকে সংকুচিত করতে হবে এবং যা ভারসাম্যহীনতা, সামাজিক দ্বন্দ্ব ও অসন্তোষের পথ দেখায় তা দূরীভূত করতে হবে।’ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার এই আকাঙ্খা পূরণ তৎকালিন আর্থিক ও সামাজিক পটভূমিতে সম্ভব ছিল না। ১৯৬৯ সালের মে মাসে আমেরিকার সেক্রেটারী অব স্টেট পাকিস্তান সফরে এলে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া বর্ধিত অর্থনৈতিক সাহায্যের আবেদন জানিয়ে সাড়া পাননি। এতদসত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে ১৯৭০-৭৫ মেয়াদের চতুর্থ পাঁচসালা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়েছিল আওয়ামী লীগের বিরোধিতার মুখে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখার জন্য এবং বৈদেশিক সাহায্যের প্রবাহ অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য এই পরিকল্পনা প্রণয়ন অপরিহার্য ছিল। পরিকল্পনা কমিশনের প্রতি ইয়াহিয়া খানের নির্দেশ ছিল প্রথমতঃ সামাজিক সুবিচারের প্রতি অধিকতর গুরুত্বারোপ এবং দ্বিতীয়তঃ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্যকে ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনা।
 
অধ্যায় ১৭: প্ররোচিত যুদ্ধাবস্থা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ Print E-mail
Written by কে এম আমিনুল হক   
Saturday, 15 August 2009 00:27
প্ররোচিত যুদ্ধাবস্থা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ
মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। শুরু থেকেই ক্যান্টনম্যান্ট এলাকা ছাড়া সর্বত্র আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। সিভিল প্রশাসনে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ছিল না। পূর্ব-পাকিস্তানের বেসামরিক প্রশাসন চলছিল মুজিবের নির্দেশে। যদিও আওয়ামী লীগ তাদের আন্দোলনকে বলতো অহিংস, প্রকৃত পক্ষে তাদের আন্দোলন ছিল ভয়ঙ্কর ভায়োলেন্সপূর্ণ। অবাঙালীদের উপর মনস্তাত্বিক আক্রমণ থেকে শুরু করে হত্যা লুণ্ঠন চলেছিল নির্বিচারে। ২৬ মার্চ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঢাকার উপর সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর সেনাবাহিনী আওয়ামী লীগের প্রতিরোধ ভেঙে অগ্রসর হতে থাকে। মে মাসের শেষ নাগাদ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ সমগ্র দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ জনগণকে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ভারতে পলায়ন করে। সাথে নিয়ে যায়- ট্রেজারী ও ব্যাংক লুণ্ঠন করা বিপূল পরিমান অর্থ। পরবর্তীতে প্রাণ ভয়ে পলায়ন করে সাধারণ মানুষের কিছু অংশ দিল্লী সৃষ্ট পূর্ব পাকিস্তানের সংকটের সম্ভাব্য উদ্বাস্তুদের জন্য পূর্ব থেকে নির্মাণ করা ভারতের উদ্বাস্ত শিবিরগুলোতে স্থান নেয়। এদের সংখ্যা প্রকৃতপক্ষে ছিল ২০ লাখ, যদিও হিন্দুস্তানের দাবী অনুসারে পূর্বপাকিস্তানের উদ্বাস্তুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি সেনাবাহিনীর অগ্রযাত্রা সহমর্মিতা সমবেদনা এবং মহানুভূতিতে পূর্ণ ছিল না।  না থাকার পেছনেও যথেষ্ট কারণ ছিল। অগ্রসরমান সেনাবাহিনী দেখেছে আওয়ামী লীগের পাশবিক নির্মমতা এবং সসস্ত্র প্রতিরোধ। তারা পথেঘাটে পড়ে থাকতে দেখেছে আওয়ামী লীগের নিপীড়নে নিষ্পেষিত অবাঙালী ও বাঙ্গালী সৈনিকদের লাশ। এর ফলে তারা সহমর্মী হওয়ার বদলে নির্মম হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের উপর এক ধরনের প্রতিরোধ স্পৃহা তাদের মধ্যে ক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে। ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। হিন্দুস্থানের পেতে রাখা ফাঁদে পা দিয়েছে এবং তারা যেখানে প্রতিরোধ হয়েছে সেখানে প্রতিরোধ ভেঙ্গে দিয়ে অগ্রসর হয়েছে।
 
«StartPrev123NextEnd»

Page 2 of 3