Home EBooks ফেলে আসা দিনগুলো

eBooks

Latest Comments

ফেলে আসা দিনগুলো - অধ্যায় ২১ PDF Print E-mail
Written by ইব্রাহিম হোসেন   
Sunday, 02 November 2003 20:38
Article Index
ফেলে আসা দিনগুলো
অধ্যায় ১
অধ্যায় ২
অধ্যায় ৩
অধ্যায় ৪
অধ্যয় ৫
অধ্যায় ৬
অধ্যায় ৭
অধ্যায় ৮
অধ্যায় ৯
অধ্যায় ১০
অধ্যায় ১১
অধ্যায় ১২
অধ্যায় ১৩
অধ্যায় ১৪
অধ্যায় ১৫
অধ্যায় ১৬
অধ্যায় ১৭
অধ্যায় ১৮
অধ্যায় ১৯
অধ্যায় ২০
অধ্যায় ২১
All Pages

১৯৭৩ সালের ২৬ নভেম্বর আমি জেল থেকে মুক্তি পাই। মুক্তি পাওয়ার আগে আমাকে কোর্টে নেয়া হয়। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছিল তা আইনের দৃষ্টিতে ছিল নিতান্তই ঠুনকো। জিপি ইসমাইল ছিলেন আমার বিশেষ বন্ধু। কোর্টে তিনি আমাকে দেখে একেবারেই অবাক। এজলাসে তিনি আমাকে সবার সামনে বুকে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞাসা করলেন দোস্ত এখানে কেন? আমি বললাম, তোমার কোর্টে আজ আসামী হিসেবে হাজির হয়েছি। উপনির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলাম সেই অপরাধে সরকার আমাকে অভিযুক্ত করেছে। ইসমাইল আমার কেসের নথিপত্র পড়েছিলেন কিনা জানিনা। তিনি বললেন, তোর আবার কি হবে! তোর বিরুদ্ধে কোন ক্রিমিন্যাল কেস নেই। এসব রাজনৈতিক অভিযোগ ধোপে টেকে না।

জিপি ইসমাইলের সাথে আমার মাখামাখি কোর্ট ভর্তি লোক চেয়ে দেখছিল। জজ ছিলেন হিন্দু। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন কেন? আমি বললাম আমি একটা আদর্শে বিশ্বাস করি। তরুণ বয়স থেকেই আমি এই আদর্শের পক্ষে কাজ করে আসছি। সে আদর্শ রক্ষার জন্যই আমি নির্বাচন করেছি।

আমার বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ যেসব সাক্ষী ঠিক করেছিল তারা আমার পক্ষেই সাক্ষী দেয়। আওয়ামী লীগ এমপি সাংবাদিক এবিএম মূসা আমার পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন। আমি কোন Criminal Offence করিনি। রাজনৈতিক কারণেই বন্দী হয়েছি।

এভাবেই আমার বিরুদ্ধে মুজিব সরকারের রুজুকৃত মামলা-নাটকের পরিসমাপ্তি হয়। সেই সাথে আমার জীবনে একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও যবনিকাপাত ঘটে।

জেল থেকে বের হয়ে আমরা এককালে যা আশঙ্কা করেছিলাম, দেশ জুড়ে তারই রূঢ় প্রতিচ্ছবি দেখতে পেলাম। দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতিতে দেশের মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়েছিল। দু’আনা চাল চার আনা ঘির প্রতিশ্রুতি পালন দূরে থাক দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন যোগাড় করা মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ অবস্থার পরিণতি গিয়ে দাঁড়ায় ’৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে। এ দুর্ভিক্ষে প্রায় ১০ লাখ বনি আদম প্রাণ হারায়। এ দুর্ভিক্ষ ছিল সম্পুর্ণভাবে আওয়ামী লীগ সৃষ্ট।

বাংলাদেশ হওয়ার পর প্রচুর পরিমাণে বিদেশী সাহায্য এসেছিল। নতুন দেশের পুনর্গঠনের জন্য দাতা সংস্থা ও ধনী দেশগুলো বিপুল পরিমাণ অর্থ ও খাদ্য সাহায্য দিয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতা ও কর্মীরা বাংলাদেশ হওয়ার পর শুধু পাকিস্তানপন্থীদের অর্থ ও সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়নি, জনগণকে দেয়া এই বিপুল সাহায্যও সম্পূর্ণরূপে লোপাট করে নিয়েছিল। যার ফলে জাতীয় অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়ে। চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ ছিল এর স্বাভাবিক পরিণতি।

অথচ পাকিস্তান আমলে কি নির্জলা মিথ্যাই না বলা হত পূর্ব পাকিস্তানের পাটের টাকায় পশ্চিম পাকিস্তানকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করা হচ্ছে। এখানকার কাগজ নিয়ে সীল মেরে এখানে পুনরায় চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব তো এখন বন্ধ হয়েছে। পাঞ্জাবীরাও আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিল। কিন্তু আমাদের পাটকলগুলো এখন বছরে কোটি কোটি টাকা লোকসান দেয়। কেন এশিয়ার বৃহত্তম আদমজী জুট মিলই বা বন্ধ করতে হল কেন?

কাগজে এক সময় পূর্ব পাকিস্তান ছিল সারপ্লাস। কর্ণফুলী কাগজ কল এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কাগজের কারখানা। এটা এখন সরকারের জন্য এক শ্বেত-হস্তী। এক সময়ের লাভজনক প্রতিষ্ঠানটি সমাজতন্ত্রের দোহাই দিয়ে জাতীয়করণের ফল দিতে শুরু করেছে। কাগজ কলের উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। ইন্ডিয়া বাংলাদেশের কাগজের বাজার দখল করে নিয়েছে।

এরকম উদাহরণ দেয়া যেতে পারে ভুরি ভুরি। বাংলাদেশের বাজার আজ ইন্ডিয়ার ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের দখলে। দেশীয় শিল্প-কারখানা শেষ হওয়ার পথে। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে গলাবাজি করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার নামে জান কোরবান করে দেন, তারা কিন্তু এসব নিয়ে মোটেও উৎকন্ঠিত নন।

আসলে এসব তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধারা কখনই বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি। তারা চেয়েছিল ভারতীয় অধিপত্য। পাকিস্তানকে ভাঙ্গার জন্য তারা স্বাধীনতার দোহাই পেড়েছিল মাত্র।

ঊনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দী হচ্ছে মুসলমানদের জন্য এক ক্রান্তিকাল। ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি মুসলমান দেশগুলোতে হ্রাস পেলেও ইসলামের দুশমনদের চক্রান্ত থেমে থাকেনি। এ শতাব্দীর প্রথম দিকে আমরা দেখেছি পাশ্চাত্যের খ্রিষ্টান দেশগুলোর সম্মিলিত চক্রান্তে মুসলমানদের ঐক্যের প্রতীক তুর্কী খেলাফতও ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। এটা অবশ্য সত্য, মুসলমান নেতৃত্বের বহুমাত্রিক দুর্বলতা পাশ্চাত্যের খ্রিষ্টান চক্রকে উৎসাহিত করেছে।

তথাকথিত স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে কিছু স্থানীয় তল্পীবাহক ও বরকন্দাজ সৃষ্টি করে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বিভিন্ন নামে স্বাধীন রাজ্য সৃষ্টি করে তুর্কী খেলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উসকে দেয়া হয়।

এসবের ফলশ্রুতি হল মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন নামে স্বাধীন অনুঘটক হিসেবে কাজ করছিল বিখ্যাত লরেন্স অফ অ্যারাবিয়া। এসব দুর্বলতার সুযোগে পাশ্চাত্য শক্তিগুলো জন্ম দেয় অবৈধ ইহুদী রাষ্ট্রের।

ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ফসল ছিল পাকিস্তান। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ ও হিন্দু ব্রাহ্মণ্যবাদ জোটবদ্ধভাবে চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছিল। কিন্তু মুসলমানদের ইস্পাত কঠিন ঐক্যের কারণেই ইঙ্গ-হিন্দু চক্রান্ত সফল হতে পারেনি। তারা জানত মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক বিবাদ উসকে দিয়েই তাদের উদ্দেশ্য কেবল সফল করা সম্ভব। ১৯৭১ সালে সেই ঘটনাই ঘটেছিল। শেখ মুজিব ও জুলফিকার আলী ভুট্টোর ক্ষমতার লড়াইকে শত্রুরা কাজে লাগিয়েছিল পাকিস্তানকে ভাঙ্গার মোক্ষম সুযোগ হিসেবে।

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলমান। এই চেতনাই বাংলাদেশকে রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হলে, এ ভূ-খন্ড কখনই ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত হত না এবং পরবর্তীতে স্বতন্ত্র অস্তিত্ব নিয়ে টিকে থাকতে পারত না। একমাত্র ইসলামই এদেশের স্বতন্ত্র মর্যাদা নিশ্চিত করেছে। আমাদের সবার এখন পবিত্র দায়িত্ব ভারতীয় আধিপত্যবাদের হিংস্র থাবা থেকে বাংলাদেশকে হেফাজত করা।
(বইটির pdf version download করুন এখানে)



Add this page to your favorite Social Bookmarking websites

 

Comments  

 
+1 # 2014-02-28 13:32
Its true history....I salute this
Reply | Reply with quote | Quote
 
 
0 # 2014-03-09 11:59
Thanks to Allah.I'm really proud to be a Muslim. I've lost word & don't know how to admire the almighty Allah. May almighty Allah keep my father in peace and harmony.
Reply | Reply with quote | Quote
 
 
0 # 2014-09-24 05:03
আসসালামু আলাইকুম শ্রদ্ধেয় লেখক,
আপনার বইটি পড়ে ইতিহাসের যে বিষয় নিয়ে Confusion তৈরী হয়েছে তা পুরোপরি দূর হয়ে গেছে। তবে যে সত্য উপলদ্ধি করেছি, তা নতুন প্রজমকে জানানোর একটা তাগিদ অনুভব করছি। কিন্তু কিভাবে করব তা বুঝে উঠতে পারছিনা। তবে আওয়ামী লিগের রাজনীতি যে গোয়েবসলীয় তত্বের উপর প্রতিষ্টিত তা পানির মত পরিষ্কার। সেই তত্ত্বের মত করেই একটি সামাজিক আন্দোলন হওয়া দরকার। আপনি কেমন আছেন, কোথায় আছেন আপনাকে দেখতে ইচ্ছে করে,সরাসরি পা ছুয়ে সালাম দিতে ইচ্ছে। আল্লাগ আপনাকে ভাল রাখুক। ধন্যবাদ মাজহার
Reply | Reply with quote | Quote
 

Add comment


Security code
Refresh