Home EBooks ৭১এর আত্মঘাতের ইতিহাস

eBooks

Latest Comments

একাত্তরের আত্মঘাতের ইতিহাস
অধ্যায় ১৪: একাত্তরে মুক্তি বাহিনীর প্রকৃত সফলতা কতটুক? Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Sunday, 19 October 2008 19:10
বহু ভিত্তিহীন মিথ্যার পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস রচনায় আরেক মিথ্যাচার হয়েছে মুক্তিবাহিনীর অবদান নিয়ে। এ নিয়ে কোন বিরোধ নেই যে, মুক্তিবাহিনীর বহু হাজার সদস্য ভারতে গিয়েছিল এবং সেখানে গিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও গুপ্তচর সংস্থা র’এর প্রশিক্ষকদের থেকে ট্রেনিং নিয়েছিল। ট্রেনিং শেষে বাংলাদেশের ভিতরে তারা বহু লড়াই এবং বহু নাশকতা তৎপরতাও চালিয়েছে। এ নিয়েও বিরোধ নেই যে, আওয়ামী লীগের কর্মীদের নিয়ে স্বাধীন বাংলা মুক্তিফৌজ নামে একটি গুপ্ত সংগঠন ষাটের দশক থেকেই ভারতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। তারা বিভিন্ন স্থানে গুপ্ত হামলা চালিয়েছিল এবং এসব হামলায় অনেকে প্রাণও হারিয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানের পরাজয় ও বাংলাদেশের সৃষ্টিতে তাদের ভূমিকা কতটুকু? মুক্তিবাহিনীর দাবী, স্বাধীন বাংলাদেশ তাদেরই সৃষ্টি। এ যুক্তিতে ভারতের ভূমিকাকে পাদটিকায় পাঠানো হয়েছে। এ কথাটি প্রমাণের চেষ্টা হয়েছে স্কুলের পাঠ্যপুস্তকেও। স্কুলের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি প্রতি বছর এ কথাটিই তারা বার বার বলে ১৬ই ডিসেম্বরে। এ কথা বলে, নিছক নিজেদের ভাবমূর্তিটাকে বড় করে তুলে ধরার লক্ষ্যে। এটি সত্য যে, মুক্তিবাহিনী যুদ্ধ করেছিল ৯ মাস। এ ৯ মাসে ভারত তাদের সর্বাত্মক সামরিক ও বেসামরিক সরবরাহ জুগিয়েছিল।
 
অধ্যায় ১৫: পাকিস্তানের সমর্থনের অর্থ কি জালেমের সমর্থন? Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Sunday, 19 October 2008 19:15
অনেকেরই যুক্তি, একাত্তরে পাকিস্তানের সমর্থন করার অর্থ ছিল জালেমের সমর্থন করা। তাদের প্রশ্ন,এমন জালেমকে সমর্থন করা কি ইসলামসম্মত? তাদের কথা পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান যেহেতু জালেম, দেশটিকে তাই আর বাঁচিয়ে রাখা যায় না। ফলে তারা সর্বশক্তি বিনিয়োগ করে পাকিস্তানের বিনাশে। এ যুক্তিতে ইসলামের শত্রুশক্তি বা কাফের শক্তির সাথে জোট বাঁধাটাও তাদের কাছে আদৌ দোষের মনে হয়নি। ফলে তারা ভারতকে ডেকে আনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। সাদ্দাম হোসেন অতি জালেম -এ যুক্তি দেখিয়ে একই ভাবে ইরাকের মার্কিন তাঁবেদার পক্ষটি নিজ দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে অনিবার্য করে তোলে। এভাবে তারা ত্বরান্বিত করে দেশটির সর্বাত্মক ধ্বংসের কাজ। জালেম হটানোর এমন হটকারি উদ্যোগে ইতিমধ্যেই দেশটির ৬ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। পঙ্গু হয়েছে ১০ লাখেরও বেশী। উদ্বাস্তুর বেশে দেশে-বিদেশে ঘুরছে প্রায় ৩০ লাখ। ফালুজার মত বহু শহর মাটিতে মিশে গেছে। এখনও সে বিনাশকর্ম পুরাদমে চলছে। কোন ঘরেই বিষাক্ত সাপের প্রবেশ অস্বাভাবিক নয়। তবে আহাম্মকি হল সে সাপের কারণে ঘরে আগুন দেওয়া। অথচ ধৈর্য ধরলে হয়ত বিষাক্ত সাপটি নিজে নিজেই সরে যেতে পারে। না সরলে সে সাপটিকে মারা যেতে পারে।
 
অধ্যায় ১৭: ভারতপন্থিরা কি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি? Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Sunday, 19 October 2008 19:33
১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠার পিছনে যে আদর্শটি কাজ করেছিল সেটি ছিল প্যান-ইসলামিক চেতনা। সে চেতনার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল ছিল মুসলিম লীগের দ্বি-জাতি তত্ত্ব। যার মূল কথা হল, হিন্দু ও মুসলমান দু'টি পৃথক জাতি। ফলে তাদের জীবন ও জগত নিয়ে ভাবনা যেমন ভিন্ন, তেমনি ভিন্ন হল রাজনীতির মূল লক্ষ্য ও এজেন্ডা। তখন পেশোয়ার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল উপমহাদেশে, মুসলমানদের সর্ববৃহৎ সংগঠন ছিল মুসলিম লীগ। তখন এ সংগঠনটির নেতাদের মাঝে স্থান পেয়েছিল মুসলমানের কল্যানচিন্তার এক প্রবল ভাবনা। সে ভাবনা নিয়ে সেদিন একতাবদ্ধ হয়েছিল বাঙ্গালী, বিহারী, পাঞ্জাবী, সিন্ধি, পাঠান, গুজরাটি তথা নানা ভাষাভাষী ভারতীয় মুসলমানগণ। তারা বুঝতে পেরেছিল মুসলমানদের জন্য কল্যাণকর কিছু করতে হলে আলাদা দেশ চাই। সে লক্ষ্যে একতাও চাই। নইলে সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং সে সাথে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষা-দীক্ষায় অগ্রসর হিন্দুদের সাথে প্রতিযোগিতা করে মুসলমানদের জন্য কল্যাণকর কিছু করা অসম্ভব। সে ধারণা অতি দ্রুত গ্রহনযোগ্যতা পায় অধিকাংশ ভারতীয় মুসলামানদের কাছে। এ ধারণা প্রবল ঝাঁকুনি দেয় ভারতীয় মুসলিম যুবকদের মনে।
 
অধ্যায় ১৯: যে ইতিহাস আত্মঘাতি বুদ্ধিবৃত্তির Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Sunday, 19 October 2008 19:43
খুন, মদ্যপান বা ব্যাভিচারের চেয়েও জঘন্য হলো অনৈক্য বা বিভেদ। কারণ খুন, মদ্যপানে বা ব্যভিচারে ধ্বংস হয় কতিপয় ব্যক্তি। অনৈক্যে ধ্বংস হয় একটি দেশ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সমগ্র উম্মাহ। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, মুসলমানগণ পরস্পরের ভাই। আর সে ভ্রাতৃত্বের নমুনা কি এই,দুই ভায়ের মাঝে অনতিক্রম্য প্রাচীর গড়া হবে? সীমান্ত রেখা তো বিভেদেরই প্রাচীর। মহাসাগর অতিক্রমের ন্যায় বিভেদের এ প্রাচীর অতিক্রম করাও দূরুহ। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সে বিভক্তি হলো ভৌগলিক ও রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা। ইসলামে সেটি হারাম। রাষ্ট্রে বিরাজমান অন্যায়ের বিরুদ্ধে নাগরিকের প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে, কিন্তু অধিকার নেই মুসলিম ভূগোলকে খন্ডিত করার বা উম্মাহর মাঝে বিভেদ গড়ার। তাই গাধা,ঘোড়া ও উট ছাড়া যখন অন্য কোন যানবাহনই ছিল না, তখনও বহু হাজার মাইলের ব্যবধানে নানা ভাষা ও নানা বর্ণে বিভক্ত মুসলমানরা একতাবদ্ধ থেকেছে। রাজধানি এবং রাষ্ট্রের খলিফা বহু হাজার মাইল দূরে থাকলেও সে কারণে রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়নি। ফলে মুসলিম ভূমি খন্ডিত হয়নি। মরক্কো, মিশর, লিবিয়া বা আলজেরিয়ার মুসলমানগণ বহু হাজার মাইল দূরের ইস্তাম্বুলের সাথে অখন্ডতা বজায় রেখেছে।
 
অধ্যায় ১৬: পাকিস্তানপন্থিগণ কি স্বাধীনতার বিপক্ষ-শক্তি? Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Sunday, 19 October 2008 19:27
যাদেরকে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি রূপে চিত্রিত করা হচ্ছে তারা কি আদৌ বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল? এ নিয়ে বিবাদ নেই, তারা অখন্ড স্বাধীন পাকিস্তানের পক্ষে ছিল। তারা বিরোধীতা করেছিল পাকিস্তান ভাঙ্গার। তখন পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক ছিল পূর্বপাকিস্তানীরা, তাই পাকিস্তান স্বাধীন হলে সে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকগণ পরাধীন হয় কি করে? বরং সে দেশ ভাঙ্গার অর্থ বাংলাদেশের চেয়ে ছয়গুণ বৃহৎ দেশের উপর বৈধ শাসনের যে ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক অধিকার তাদের ছিল সে অধিকার থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা। এজন্যই কোন দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠরা দেশবিভক্তির সর্বশক্তি দিয়ে বিরোধীতা করে। প্রয়োজনে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধও লড়ে। অথচ পাকিস্তানে উল্টোটি ঘটেছে, দেশটি বাঁচাতে দেশের সংখ্যালঘিষ্ঠরা লড়েছে। আর ধ্বংসে নেমেছিল সেদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ। একেই বলা যায় একটি নিরেট আত্মঘাত। নিরোদ চৌধুরি কোলকাতা কেন্দ্রীক বাঙ্গালী বুদ্ধিজীবীদের অনেক আগেই আত্মঘাতি বলেছেন, কিন্তু আত্মঘাতে বিশ্বকে তাক লাগিয়েছে তাদের ঢাকার শাগরেদরা। কোলকাতার আত্মঘাতি বুদ্ধিজীবীদের কারণেই ১৯৪৭ এ বাংলা বিভক্ত হয়েছিল। এবং পশ্চিম বাংলা পিছিয়ে গেল ভারতের অন্যান্য প্রদেশ থেকে; শুধু রাজনীতিতে নয়, জ্ঞানবিজ্ঞান, অর্থনীতি ও রাজনীতেতেও।
 
অধ্যায় ১৮: যে ইতিহাস আত্মবিনাশের Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Sunday, 19 October 2008 19:40
স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে যে অবিরাম বিবাদ সেটি বাংলাদেশের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আত্মঘাতি বিষয়ও। যখনই দেশে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্রতর হয় তখনই প্রবলতর হয় এ বিবাদ। তবে এটিকে বিবাদ বললেও ভূল হবে। কারণ বিবাদে দুটি পক্ষ থাকে। অথচ এখানে চলছে এক পক্ষের তীব্র গলাবাজী। এনিয়ে যেমন নেই বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা, তেমনি নেই একাডেমিক লেখালেখি। আছে নিছক আবেগ, গালিগালাজ ও অস্বীকারের মিথ্যাচার। এটি অস্বীকারের উপায় নেই, তথাকথিত বুদ্ধিবৃত্তির পুরো ময়দানটি দখল করে আছে চিন্তা-চেতনায় স্যেকুলার, ধর্মে অঙ্গিকারহীন এবং রাজনীতিতে ভারতপন্থি একটি পরিচিত গোষ্ঠী। স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে যত লেখালেখি হয়েছে তা মূলতঃ তাদেরই পক্ষ থেকেই। তাদের অভিযোগ,বাংলাদেশের স্বাধীনতা এই ইসলামপন্থিদের কারণে বিপন্ন। এটি এক গুরুতর অভিযোগ। আরো দুশ্চিন্তার কারণ, ইসলামপন্থিদের মুখেও এনিয়ে উচ্চবাচ্য নেই, একাডেমিক আলোচনাও নেই। শাক দিয়ে মাছ ঢাকার ন্যায় তারাও বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। অনেকে তো স্যেকুলার প্রপাগান্ডার জোয়ারে ভেসেও গেছে। এমনকি একাত্তরে নিহত নিজেদের লোকদের কথাও তারা বেমালুম ভুলে গেছে। বরং নিজেদের পরাজয়ের দিনটিকে উৎসবের দিন রূপে উদযাপন করছে।
 
অধ্যায় ২০: আসল রূপে শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগ Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Sunday, 19 October 2008 19:48
শেখ মুজিবের আসল রূপ প্রকাশ পায় ১৯৭১-এর পর। পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলনের ধুম্রজালে তিনি তার আসল চরিত্র বহুলাংশে লুকিয়ে রাখতে পারলেও সেটি বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের ন্যায় প্রকাশ পায় বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠার পর। ১৯৭০ সালের ৭ই ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের নির্বাচন। সে নির্বাচনের প্রাক্কালে শেখ মুজির ২৮শে অক্টোবর জাতির উদ্দেশ্যে রেডিও ও টিভি ভাষণ দেন। সে ভাষণে তিনি বহু অসত্য কথা বলেন। তার একটি নমুনা, “তদানীন্তন ক্ষমতাসীন দল (পাকিস্তান মুসলিম লীগ) সমগ্র দেশকে একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত করার যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল, সেই হীন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্যই আমাদের মহান নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এ ভাবেই আমরা পাকিস্তানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আপোষহীন সংগ্রাম শুরু করি।”-(২৯ অক্টোবর ১৯৭০, দৈনিক পাকিস্তান, ঢাকা)। এ তথ্যটি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। সত্য হল, পাকিস্তান মুসলিম লীগ কখনই দেশকে একদলীয় রাষ্ট্র করার চেষ্টা করেনি। তার প্রমাণ, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে যখন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় তখন মুসলিম লীগ সরকারের পক্ষ থেকে এই নতুন দলটির প্রতিষ্ঠায় কোন রূপ বাধাই সৃষ্টি করা হয়নি।
 
«StartPrev1234NextEnd»

Page 3 of 4
 

Most Read