Home EBooks ৭১এর আত্মঘাতের ইতিহাস অধ্যায় ১৫: পাকিস্তানের সমর্থনের অর্থ কি জালেমের সমর্থন?

eBooks

Latest Comments

অধ্যায় ১৫: পাকিস্তানের সমর্থনের অর্থ কি জালেমের সমর্থন? Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Sunday, 19 October 2008 19:15
অনেকেরই যুক্তি, একাত্তরে পাকিস্তানের সমর্থন করার অর্থ ছিল জালেমের সমর্থন করা। তাদের প্রশ্ন,এমন জালেমকে সমর্থন করা কি ইসলামসম্মত? তাদের কথা পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান যেহেতু জালেম, দেশটিকে তাই আর বাঁচিয়ে রাখা যায় না। ফলে তারা সর্বশক্তি বিনিয়োগ করে পাকিস্তানের বিনাশে। এ যুক্তিতে ইসলামের শত্রুশক্তি বা কাফের শক্তির সাথে জোট বাঁধাটাও তাদের কাছে আদৌ দোষের মনে হয়নি। ফলে তারা ভারতকে ডেকে আনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। সাদ্দাম হোসেন অতি জালেম -এ যুক্তি দেখিয়ে একই ভাবে ইরাকের মার্কিন তাঁবেদার পক্ষটি নিজ দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে অনিবার্য করে তোলে। এভাবে তারা ত্বরান্বিত করে দেশটির সর্বাত্মক ধ্বংসের কাজ। জালেম হটানোর এমন হটকারি উদ্যোগে ইতিমধ্যেই দেশটির ৬ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। পঙ্গু হয়েছে ১০ লাখেরও বেশী। উদ্বাস্তুর বেশে দেশে-বিদেশে ঘুরছে প্রায় ৩০ লাখ। ফালুজার মত বহু শহর মাটিতে মিশে গেছে। এখনও সে বিনাশকর্ম পুরাদমে চলছে। কোন ঘরেই বিষাক্ত সাপের প্রবেশ অস্বাভাবিক নয়। তবে আহাম্মকি হল সে সাপের কারণে ঘরে আগুন দেওয়া। অথচ ধৈর্য ধরলে হয়ত বিষাক্ত সাপটি নিজে নিজেই সরে যেতে পারে। না সরলে সে সাপটিকে মারা যেতে পারে।

কিন্তু তাই বলে ঘরের বিনাশ কি কোন সুস্থ্য মানুষের কাম্য হতে পারে? বিষয়টি অভিন্ন কোন দেশে জালেম শাসকের অপসারণের বিষয়েও। মূল লক্ষ্য হতে হবে সে জালেমকে হটানো। দেশের বিনাশ নয়। যে স্বৈরাচারি ইয়াহিয়া খানকে নিয়ে এত অভিযোগ সে কিন্তু ১৯৭২ এ ক্ষমতা থেকে নেমে গিয়েছিল নিজে থেকেই। এ জন্য পাকিস্তানীদের কোন আন্দোলন করতে হয়নি। জেনারেল ইয়াহিয়ার চেয়েও শক্তিধর এবং অভিজ্ঞ স্বৈরাচারি শাসক আইয়ুব খানকে সরাতেও কোন যুদ্ধ করতে হয়নি। একটি গণ-আন্দোলনই সে লক্ষ্যে যথেষ্ট ছিল। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে জালেম সরানোর এটিই তো বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিক পথ। তাই প্রশ্ন, ইয়াহিয়া খানের সামরিক সরকার যতই জালেম হোক,সে জন্য কি একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অনিবার্য ছিল? সে যুদ্ধে ডেকে আনতে হবে ভারতের ন্যায় চিহ্নিত শত্রু শক্তিকে? অথচ আওয়ামী লীগ তাই করেছে। ১৯৭০ এর নির্বাচনের পর কথা ছিল ১৯৭১ এর ৩রা মার্চ ঢাকায় পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের (পার্লামেন্ট) বৈঠক বসবে। এ সংসদের দায়িত্ব শুধু সরকার গঠন ছিল না,মূল দায়িত্ব ছিল একটি শাসনতন্ত্র তৈরী করা। প্রেসেডেন্ট ইয়াহিয়া খান চাচ্ছিল বৈঠকের আগেই প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে শাসনতন্ত্রেও মৌলিক কিছু বিষয়ে আপোষ হোক। আওয়ামী লীগ যে লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক সাক্ষও কেও নির্বাচন করেছিল সেটিও তারা মানতে রাজী ছিল না। ইয়াহিয়া খান প্রস্তাব রেখেছিল শেখ মুজিবকে প্রধানমন্ত্রী ও ভূট্টোকে উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী করে একটি সরকার গঠনের। আলোচনার শেষ দিনে শেখ মুজিব জানিয়ে দিল,পাকিস্তানে ফেডারেল সরকার গঠন নিয়ে তাদের আগ্রহ নেই। শেখ মুজিব দাবী করছিল, পূর্ব পাকিস্তানের ক্ষমতা তার হাতে দিয়ে দেওয়া হোক। এবং সেনা বাহিনী অপসারণ করা হোক। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বহু নেতা স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা নির্মাণ করেছিল ষাটের দশকেই। তারা মোক্ষম সুযোগ খুঁজছিল বাংলাদেশের মাটিতে সেটি উত্তোলনের। একাত্তরের পর সে পরিকল্পনার কথা এসব নেতারা বহুবার বলেছেন। ফলে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান যতই রাজনৈতিক আপোষের চেষ্টা করুক না কেন আওয়ামী লীগ অপেক্ষায় ছিল তেমন একটি সুযোগের। পাকিস্তানকে জালেম শাসক মুক্ত করা বা দেশটিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা এজন্যই শেখ মুজিব বা আওয়ামী লীগের কাছে সে সময় আদৌ কোন রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল না। বরং লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানকে খন্ডিত করা। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ তৎকালীন সরকারের দেওয়া ৮ দফা লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক মেনে নিয়ে নির্বাচনে নামে। এর অর্থ ছিল অখন্ড পাকিস্তানের অস্তিত্বকে মেনে নেওয়া। কিন্তু নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ তাদের সে কথা ভূলে যায়। এমন সব দাবী করে যাতে পাকিস্তানের পক্ষে অখন্ড অস্তিত্ব নিয়ে টিকে থাকাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। এর ফলে অকার্যকর ও অনর্থক হয়ে পরে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের আসন্ন বৈঠক। এমন এক অচল অবস্থায় ১৯৭১ এর ১লা মার্চে এক বেতার ভাষনে ইয়াহিয়া খান ৩রা মার্চের জাতীয় পরিষদের বৈঠক মুলতবি করেন। মুলতবী করলেও আলোচনার পথ তিনি খোলা রাখেন। কদিন পরই ২৫ মার্চে আবার জাতীয় পরিষদের বৈঠক ডাকেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সে অধিবেশনে যেতে অস্বীকার করে। বরং দেশ জুড়ে শুরু করে সন্ত্রাস এবং সে সন্ত্রাসের শুরু ১লা মার্চ থেকেই।


পহেলা মার্চে পার্লামেন্ট অধিবেষন মুলতবি ঘোষণার সাথে সাথেই আওয়ামী লীগ ও ছাত্র লীগের কর্মীগণ মারমুখো আক্রোশ নিয়ে রাস্তায় নামে। ঐদিন ঢাকা স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ ক্রিকেট খেলা চলছিল। খেলার মাঠে সামিয়ানায় আগুন দেওয়া হয়। পন্ড হয় খেলা। খেলোয়াড়গণ সে সময় দৌড়িয়ে মাঠ ছাড়ে। (লেখক নিজে সে সময় দর্শকের গ্যালারিতে ছিলেন।) শুরু হয় তৎকালীন জিন্নাহ এ্যাভিনিউয়ের (বাংলাদেশ আমলে যার নাম হয় বঙ্গবন্ধূ এ্যাভিনিউ) অবাঙ্গালীদের দোকান লুটপাঠ। তখন লুন্ঠিত হয় গ্যানিস নামে ঢাকা শহরের সবচেয়ে বড় ডিপার্টমেন্টাল শপ। (সে লুটপাটের দৃশ্য লেখক নিজ চোখে দেখেছেন।) অবাঙ্গালীদের উপর হামলা ও তাদের সম্পদ লুন্ঠনের তান্ডব শুধু ঢাকাতে সীমিত থাকেনি। শুরু হয়েছিল দেশ জুড়ে। কিন্তু সে জুলুমের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ কোন ভূমিকাই রাখেনি। এমনকি বাংলাদেশের ইতিহাসের লেখকদের জবানবন্দীতে সেটি ধরা পড়েনি। ফলে পাকিস্তান ভাঙ্গার লড়াইকে যারা জালেম ও জুলুমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই বলেন, সে জুলুম বিরোধী চেতনাটি এখানে ধরা পড়ে না। তাদেরকেই বরং প্রচন্ড জুলুমবাজীতে নামতে দেখা যায় অবাঙ্গালীদের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগের অপরাধ, তাদের টার্গেট দেশের জালেম শাসক ছিল না। ছিল দেশ। লক্ষ্য ছিল দেশটির বিনাশ। তাই পাকিস্তানে যখন ইয়াহিয়া খান বা টিক্কা খান ছিল না,২৫ শে মার্চের সামরিক এ্যকশনও হয়নি তখনও শেখ মুজিব দেশটির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছেন এবং সেটি ১৯৪৭ থেকেই। শেখ মুজিব নিজেই বলেছেন তিনি (পাকিস্তান ভেঙ্গে) বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু করেন ১৯৪৭ থেকেই। (সুত্রঃ পাকিস্তান থেকে ফিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্দ্যানের জনসভায় দেওয়া তার ভাষণ।) এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি আগরতলা গেছেন। ভারতীয় গোয়েন্দাদের সাথে ষড়যন্ত্রে নেমেছেন। এবং নিজ দলীয় নেতা চিত্তরঞ্জন সুতারকে ভারতে পাঠিয়েছেন। তাই ইয়াহিয়ার সামরিক শাসনের জুলুমের কথা বলে যারা একাত্তরের আওয়ামী লীগের যুদ্ধকে জায়েজ বলতে চান সেটি কি সমর্থণযোগ্য? ইসলামে মানুষ হত্যা দূরে থাক অনর্থক গাছের ডাল ভাঙ্গা বা পাতা ছেঁড়াও জুলুম। তবে মানব হত্যার চেয়েও গুরুতর জুলুম হল একটি দেশের ভূগোলকে হত্যা করা বা খন্ডিত করা। ইসলামে এমন বিভক্তিকে বলা হয়েছে ফিতনা। মানব হত্যার চেয়েও এটিকে ক্ষতিকর বলা হয়েছে। ভূগোলের উপর হামলায় লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ-নাশই শুধু হয় না, কোটি কোটি মানুষের নিরাপত্তাও বিপন্ন হয়। যে ক্ষতির শিকার আজ ইরাক ও ফিলিস্তিনের মানুষ। বহু ক্ষেত্রেই সে বিপদটি আসে শত শত বছরের জন্য। দুর্বৃত্ত খুনিদের হাতে প্রতি দেশেই বহু মানুষ খুন হয়। বহু মহিলা ধর্ষিতাও হয়। কিন্তু এ জন্য কোন দেশেই যুদ্ধ হয়না। এমন হত্যা,ধর্ষণ ও জুলুম থেকে দেশবাসীকে বাঁচানোর দায়িত্ব দেশের আদালতের। সংসদ, মিডিয়া বা রাজনৈতিক জনসভায় তা নিয়ে তুমুল আলোচনা হতে পারে। আন্দোলনও হতে পারে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী বিজয়কে ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে সে অভিযোগেরও নিস্পত্তি হওয়া উচিত ছিল দেশের আদালতে। সেটিই সভ্য সমাজের নীতি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সে পথে যায়নি। তারা বেছে নিয়েছে প্রকান্ড যু্‌দ্ধের পথ।


২৫শে মার্চের পূর্বে ১লা মার্চ থেকেই ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন কর্মীগণ প্রকাশ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করে। তাই একাত্তরে সবচেয়ে বড় জুলুমটির শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই। আর সেটি হল উপমহাদেশের মুসলমানদের নিজস্ব আশা-আকাঙ্খা, নিরাপত্তা ও ইজ্জত নিয়ে বাঁচার বিরুদ্ধে। বিশ্বের বুকে সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র নির্মাণের যে স্বপ্ন নিয়ে তারা এগুচ্ছিল আওয়ামী লীগের হামলা ছিল সেটির বিরুদ্ধেও। আগ্রাসী হামলাকারির হাত থাকে এক ইঞ্চি ভূগোল বাঁচাতে প্রতিটি দেশের মানুষই প্রাণ-পণে যুদ্ধ লড়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিশ্বের নানা দেশে ৭ কোটিরও বেশী মানুষ প্রাণ হারিয়েছে তো সে ভূগোল বাঁচানোর যুদ্ধে। বৃহৎ ভূগোলের গুরুত্ব যে শুধু যে ইউরোপীয়রা বুঝে তা নয়। মুসলিম দেশের ভূগোল বাঁচানোর এমন প্রতিটি যুদ্ধই ইসলামে জ্বিহাদ। যারা সে জ্বিহাদে মারা যায় ইসলাম তাদেরকে মৃত বলে না। বলে মৃত্যুহীন শহিদ। আল্লাহতায়ালার কাছে তারা এতই প্রিয় যে মৃত্যুর পরও তিনি তাদেরকে খোরাক দিয়ে থাকেন। উমাইয়া, আব্বাসীয় ও উসমানিয়া আমলে বহু জালেম ব্যক্তি খলিফা হয়েছেন। কিন্তু তাদের কারণে জ্বিহাদের ন্যায় ফরয ইবাদত থেমে থাকেনি। যেমন বন্ধ থাকেনি নামায-রোযা। মুসলমানগণ জ্বিহাদ করেছেন। শহীদও হয়েছেন। ইয়াহিয়া খান যত স্বৈরাচারিই হোক,নিজ দেশ বাঁচানোর জ্বিহাদ থেকে কোন পাকিস্তানী কি দায়িত্বমূক্ত হতে পারেন? দায়িত্বমূক্ত থাকতে পারেনি তৎকালীন পাকিস্তানের বৃহত্তর জনগণ পূর্বপাকিস্তানীরাও। এমনই একটি চেতনা নিয়েই দেশের সমুদয় ইসলামপন্থিরা একাত্তরে পাকিস্তান বাঁচানোর লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছিল। একাত্তরে তারা পাকিস্তানকে নিজেদের দেশ মনে করতেন, যেমনটি ভাবতেন ১৯৪৭ এ। অবাঙ্গালীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত আওয়ামী লীগের কৃত অপরাধগুলোকে যেমন তারা সমর্থন করেনি তেমনি সমর্থন করেনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অপরাধগুলোকেও। কোন দেশের সব মানুষই কি এক ও অভিন্ন চেতনার হয়? ভিন্ন ভিন্ন চেতনার মানুষেরা প্রতিদেশেই বিভিন্ন এজেন্ডা নিয়ে বাস করে। স্বৈরাচারি জেনারেল ইয়াহিয়ার এজেন্ডাকে তাই ইসলামপন্থিদের উপর চাপিয়ে দেওয়া কি যথাযথ? সে সময় ইসলামপন্থিদের এজেন্ডা ছিল মুসলিম উম্মাহর স্বার্থ সংরক্ষণ। সে লক্ষ পুরণে তারা অতি গুরুত্বপূর্ণ ভেবেছিল পাকিস্তানের অখন্ডতার সংরক্ষন। অথচ মুজিব বা আওয়ামী লীগ ইসলামে এতটাই অঙ্গীকারশূণ্য ছিল যে পাকিস্তানের খন্ডিতকরণ বা দেশটির বিনাশকে আদৌ জুলুম মনে হয়নি। বরং চিহ্নিত শত্রুর সাথে একাত্ম হয়ে তারা নিজেরাই দেশটির বিরুদ্ধে জুলুমে লিপ্ত হয়েছিল। সফলও হয়েছিল। তাদের সে সফলতা প্রচন্ড উৎসব বয়ে এনেছিল দিল্লির শাসক মহলে। দেশকে তারা তলাহীন ভিক্ষার ঝুলি বা দেশে অসংখ্য জালপড়া দুঃখী বাসন্তি সৃষ্টি করলে কি হবে ভারতের মুসলিমবিরোধী মহলে সেদিন আনন্দের প্রচন্ড হিল্লোল বইয়ে দিয়েছিল।

Add this page to your favorite Social Bookmarking websites
 

Add comment


Security code
Refresh

 

Most Read