Home EBooks আমি আলবদর বলছি

eBooks

Latest Comments

আমি আল বদর বলছি - অধ্যায় সাত Print E-mail
Written by কে এম আমিনুল হক   
Friday, 15 August 2008 00:00
Article Index
আমি আল বদর বলছি
অধ্যায় এক
অধ্যায় দুই
অধ্যায় তিন
অধ্যায় চার
অধ্যায় পাঁচ
অধ্যায় ছয়
অধ্যায় সাত
অধ্যায় আট
অধ্যায় নয়
All Pages

আমার মধ্যে ছোট বেলা থেকেই বিরাজ করছিল অনুসন্ধিৎসা। আর এ কারণেই স্বাভাবিক নিয়মে আমার মধ্যে উত্তম পাঠাভ্যাস গড়ে ওঠে। আমি মনে করতাম স্কুল কলেজে ছকবাঁধা নিয়মের পাঠ থেকে মানুষ ডিগ্রীধারী হতে পারে ঠিকই কিন্তু প্রকৃত জ্ঞানী হতে পারে না। নিয়মনীতির বাইরে থেকে বিশেষ পাঠাভ্যাসের দ্বারা জ্ঞানের বিচিত্র ভাণ্ডার থেকে এবং জ্ঞানী মহাজ্ঞানীদের অভিজ্ঞতার সমাহার বই পুস্তক থেকে জ্ঞান আহরণ করতে হবে। এ বিশ্বাসের প্রাধান্য আমার মধ্যে অত্যন্ত বেশী থাকার জন্য ডিগ্রী নেয়ার ব্যাপারে আমার তেমন আগ্রহ ছিল না। তবে বই পড়তাম প্রচুর। বই পড়ার ব্যাপারে আমার তেমন বাছ বিচার ছিল না। ইসলামের বিভিন্ন দিকের ওপর ভাল লেখকের কোন বই পেলে অবশ্যই সেটা পড়তাম। কারাগারের লাইব্রেরিতে সময় কাটাতে আমার ভাল লাগত।

কারাগার থেকে পরীক্ষা দেয়ার জন্য আমার তেমন ইচ্ছে ছিল না। জীবনের প্রয়োজনে ডিগ্রীর গুরুত্ব থাকলেও কোনদিন সেটা আমার কোন কাজে লাগবে বলে মনে করতাম না। চল্লিশ বছর কারাগারে কাটিয়ে মুক্তাঙ্গনে এসে ডিগ্রী আমার কোন প্রয়োজনে আসবে না সেটা আমি ভাল করেই জানতাম। এর চেয়ে ভাল নিত্য নতুন বই পুঁথির পাতায় পাতায় চোখ বুলিয়ে জ্ঞানের অদম্য পিপাসা নিবারণ করা।

ডিগ্রী পরীক্ষার ৬ মাস বাকী। পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য আমার চাচা খন্দকার এম ইসমাঈল, ভাই ডাক্তার এবি সিদ্দিক (পূর্ব রায়পুরা) এবং আমার  শুভাকাক্সক্ষীরা দারুণভাবে চাপ দিলেন। আমি এ ব্যাপারে উৎসাহী না হলেও তাদের চাপের মুখে রাজী হলাম। এ ব্যাপারে কারাসঙ্গীদের মধ্যে সবচাইতে বেশী সহযোগিতা দিয়েছেন হাফিজ ভাই (চাঁদপুর), শামসুল আলম, আনিসুজ্জামান (হাটু ভাঙ্গা)। বাইরে থেকে সবচাইতে বেশী সহযোগীতা দিয়েছেন আজিমপুরের মুহম্মদ ফারুক এবং মালেক ভাই। এই দু’জনই আমার অন্তহীন অন্ধকারে আলোর দুটো বিন্দু। এই দুটো বিন্দুর প্রত্যাশায় প্রতিটি মুহূর্ত তৃষ্ণার্ত হয়ে কাটাতাম। এরাই ছিলেন বাইরের জগত এবং সংগঠনের সাথে আমার সার্বক্ষণিক যোগাযোগের সূত্র। এরা বয়সে আমার ছোট হলেও আমার ওপর সদিচ্ছাই চাপিয়ে দিয়েছেন অনেক ঋণের বোঝা যা কোনদিন কোনভাবে আমি পরিশোধ করতে পারব না। আমার এবং আমার মত অনেকের ভাবনা মাথায় নিয়ে তারা দু’জন ডিগ্রী নিতে পারেননি। লেখাপড়ায় তাদের সফল অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। সুকান্তর ভাষায়, তারা যেন সেই বাতিওয়ালা, প্রতিদিন পথে পথে যে দীপ জ্বেলে ফেরে। অথচ তার ঘরে জমাট বেঁধে থাকে দুঃসহ অন্ধকার।

যথাসময় পরীক্ষা দিলাম। আমার অনীহার কারণে প্রস্তুতি তেমন হয়নি। শুধু কিছু মানুষের কথা রাখার জন্য পরীক্ষা দিলাম। কারাগার থেকে আমরা প্রায় ৭০/৮০ জন পরীক্ষা দিলাম। যথানিয়মে পরীক্ষার রেজাল্টও বেরুল। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বমোট পাশ করল ৫ জন। সৌভাগ্যক্রমে এই পাঁচজনের একজন আমিও। যা চাইনি, সেটা সীমাহীন অবহেলার মধ্যেও আমার হাতের মুঠোয় এসে গেল। অথচ যেজন্য আমার সাধনা, আমার অব্যাহত সংগ্রাম, আমার অন্তহীন কোরবানী, সেটা আজও রয়ে গেল আমার নাগালের বাইরে। এসব দেখে নজরুলের সেই গানের কলি বার বার মনে পড়ে : ‘খেলিছ এ বিশ্ব লয়ে বিরাট শিশু আনমনে।’ সবই যেন তার ইচ্ছা। সংগ্রামে সাফল্য আর ব্যর্থতার মালিক আল্লাহ। আমাদের কাজ শুধুমাত্র তার নির্দেশের আনুগত্য করা।

একান্ত আপনজন আমার মা-এর ইন্তেকাল আমাকে দারুণভাবে আহত করে। যদিও জানি সবই আল্লাহর ইচ্ছা তবু অসহায়ত্বের অন্ধকার আমাকে গ্রাস করছিল। এতদিন মনে হত আমার সব আছে। আমার জন্য মা ভিটে-মাটি সহায়-সম্বল সবকিছু আগলে অপেক্ষা করছেন। আমার একাকীত্বের চাপ শরীরের ওপরও পড়তে থাকে। এ ছাড়াও একে একে কারাগারের সাথীরা বিদায়ের ফলে সবকিছু ভুলে থাকার বিকল্প পথগুলো রুদ্ধ হতে থাকে। ওদিকে কারাগারে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আমার ওপর ও আমার কিছু সহযোগীর ওপর তাদের পুরানো মারমুখো ফ্যাসিস্ট কায়দার মহড়া আমাকে ভয়ঙ্কর বিব্রত করে তোলে। সব মিলিয়ে আমার ধৈর্যে ফাটল ধরে, দুঃসাহস শিথিল হয়ে আসে; কারণ আমিও মানুষ। মানবিক দুর্বলতার ঊর্ধ্বে তো নই। একটা মানুষ একের পর এক কত ঝড় ঝঞ্ঝা সহ্য করতে পারে? আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। প্রথমত কারাগারের ডাক্তার আমার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় আমাকে মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান হয়। এখানে মেডিসিনের অধ্যাপক ওয়ালিউল্লাহর দায়িত্বে আমার চিকিৎসা শুরু হয়। হাসপাতালে ১২নং কেবিনে আমাকে রাখা হয়। ১২ জন পুলিশ আমার জন্য নিয়োজিত হয়। পালাক্রমে ৪ জন পুলিশের সার্বক্ষণিক প্রহরায় আমাকে কেবিনে অবস্থান করতে হতো। প্রথম দিকে পুলিশের আচরণকে ঘিরে সমালোচনার মত কিছু ঘটেনি। তারা সম্ভবত আমার কাছে থেকে উৎকোচের চলতি পরিভাষা বকশিস প্রত্যাশা করছিল। কয়েকদিন তারা নির্ভেজাল ব্যবহার দেখিয়ে যখন আমার কাছ থেকে সাড়া পায়নি। তখন তারা বিভিন্ন কলাকৌশলে আমার ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগ করার চেষ্টা করে। আমার হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। আমার সাথে কেউ সাক্ষাৎ করতে এলে পুলিশেরা বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। এ নিয়ে তাদের সাথে উত্তপ্ত বচসা হয়। আমি বললাম- ‘আপনারা জানেন আমি ক্লাসিফাইড প্রিজনার। আমার হাতে বেড়ী কোন মতে পরাতে পারেন না। এটা পরিয়ে রাখার সঙ্গত কোন কারণ নেই। অনর্থক মাঝখানে অসুবিধায় পড়বেন। তাছাড়া আপনাদের অফিসার আমাকে ভালভাবেই জানেন। উপর থেকে কোন নির্দেশ থাকলে তাও বলেন। আর যদি আপনাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত হয় তাহলে অফিসারদের পরামর্শ নিন।’ আমার কথাগুলো তাদের মধ্যে কোন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করল বলে মনে হলো না। পুলিশদের একজন ছিল নামটা ঠিক মনে নেই, সে লোকই তার অন্যান্য সহযোগী পুলিশদের প্ররোচিত করেছে। এখানে তার মধ্যে যে জিনিস কাজ করেছে তা হলো, তাদের সেই একাত্তরের উন্মাদনা। সেই আদিম আক্রোশ তাদের মধ্যে জমে থাকার কারণে আমার বক্তব্যগুলো তার মনে আছর করেনি।

সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রথম দিকে কে এম মঞ্জুর এলাহী এবং এ কে এম সফিউল্লাহ ভাই- পরে কারাগারে যারা লিয়াজোঁ রাখতেন সেই মোঃ ফারুক ও আব্দুল মালেক ভাই কেবিনে আমার অবস্থা দেখে যাবার পর বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ শুরু করেন। তখন মাস্টার শফিকুল্লাহ এমপি লক্ষ্মীপুর, মওলানা আবুদর রহীম সাহেব এমপি। তিনি মন্ত্রীপর্যায়ে বিশেষ করে আলীম সাহেব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ও উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক সালাম সাহেবের সাথে যোগাযোগ করেন। মোন’য়েম খানের জামাতা, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল এমপি, নাজমুল হুদা এমপি (মোমেনশাহী) তৎপর হয়ে উঠেন তাৎক্ষণিকভাবে। তারা থানায় টেলিফোন করে জরুরীভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন। তারা টেলিফোন করেন ডিআইজি সাহেবের কাছেও।

ইতোমধ্যে বস্ত্রমন্ত্রী আলীম সাহেব এবং উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক সালাম সাহেবের টেলিফোন এসে পড়ায় ডিআইজি সাহেব দারুণভাবে তৎপর হয়ে ওঠেন। তাৎক্ষণিকভাবে ডেপুটি জেলার ও সার্জেন্টকে প্রেরণ করলেন ব্যাপারটা সুরাহা করার জন্য। তারা পুলিশদের আমার হাতের হ্যান্ডকাফ খুলে দেয়ার কথা বলেন। কিন্তু পুলিশেরা বেঁকে বসে। তারা বলে- ‘আমরা আপনাদের নির্দেশে খুলে দিতে পারি। কিন্তু আসামী পলাতক হলে সে ব্যাপারে দায়দায়িত্ব আমাদের থাকবে না। এবং একথা লিখিতভাবে দিতে হবে।’ ডেপুটি জেলার জহির সাহেব ফিরে গেলেন। ওদিকে মেডিকেল কলেজের ছাত্র, ডাক্তার, নার্সরা দলে দলে এসে পুলিশদের সামনে তাদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে থাকে। পুরো হাসপাতালটার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ডিআইজি সাহেব আর এক সার্জেন্টকে পাঠিয়ে উল্লেখিত পুলিশের রিলিজ অর্ডার তার হাতে দিয়ে অপর আর একজনকে তার কর্মস্থলে নিয়োগ করেন। সাথে উক্ত পুলিশকে ডিআইজির সামনে হাজির করা হয়। ডিআইজি এ ব্যাপারে বিরক্ত হয়ে তাকে চাকুরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু জেলার, সাব জেলারদের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ফরিদপুর বদলী করা হয়।

ইতিমধ্যে আমার হাতের বেড়ী খুলে দেয়া হয়। কিছুক্ষণ পর কোতোয়ালী থানার কর্মকর্তা এলেন, এই অনাহুত পরিস্থিতির জন্য ক্ষমা চাইলেন। বললেন, ‘ব্যাপারটা নিয়ে যদি আপনি আর বেশী নাড়াচাড়া করেন তাহলে ঐ পুলিশ বেচারাদের চাকুরি রক্ষা করা সম্ভব হবে না। আমি কি আশা করতে পারি না যে, আপনি তাদেরকে ঐ বেয়াদবীর জন্য ক্ষমা করে দিবেন?’

হেসে বললাম- ‘আমি যা চেয়েছিলাম তাতো পেয়ে গেছি। এরপর কারো ওপর আমার কোন ক্ষোভ থাকার কথা নয়।’

পরবর্তীতে আদেল সাহেব স্বয়ং আমার কাছে এলেন। কুশলাদি বিনিময়ের পর আমার আর কোন সমস্যা আছে কিনা জিজ্ঞাসা করলেন। বললেন- ‘কখনো কোন অসুবিধা হলে খবর দিবেন। আপনার তদবির চলছে, নিরাশ হবার কিছু নেই। হাসপাতাল কেবিনে থাকার সময় লক্ষ্মীপুরের এমপি মাস্টার শফিকুল্লাহ, হযরত মওলানা নূর মোহাম্মদ সিদ্দিকী, মওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী, ইসলামী ব্যাংকের ডাইরেক্টর জনাব মুহাম্মদ ইউনুস ভাই, কামরুজ্জামান ভাই, ছাত্র নেতা ডাক্তার আবিদুর রহমান, ডাক্তার আলমগীর, ডাক্তার দীলবাহান, সাইমুমের পরিচালক মতিউর রহমান মল্লিক এবং ছাত্রনেতা ডাঃ ফাত্তাহ ভাইসহ অগণিত শুভাকাংখী ও বন্ধু-বান্ধব এসেছিলেন।

মুসলিম লীগ নেতা কামরুজ্জামান খান (খসরু ভাই) এসে আমার সাথে বেশ কিছুক্ষণ কাটান এবং এ পর্যন্ত আমার জন্য যা কিছু করেছেন তার বিস্তারিত বিবরণ দেন। তিনি আমাকে আশ্বাস দিয়ে বলেন- ‘আপনার মুক্তির জন্য যেভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে তৎপরতা চালানো হচ্ছে তাতে আশা করি আপনাকে খুব শীঘ্র মুক্ত করতে পারব। এতটা দিন যে ধৈর্য নিয়ে, যে হিম্মত নিয়ে কারাগারে অবস্থান করেছেন আমি আশা করব শেষ পর্যায়ে এসে আপনি হিম্মতহারা হবেন না।’ হুমাইপুরের চেয়ারম্যান ফজলুল করিম খান ও তাঁর জামাতা এলেন আমার সাথে দেখা করে মুক্তির ব্যাপারে আশ্বস্ত করার জন্য।

আমার কাছে সবচাইতে আনন্দের বিষয় হলো- ইসলাম বিরোধী মোর্চার লক্ষ্যবস্তু আমার প্রিয় নেতা অধ্যাপক গোলাম আযম এসেছিলেন আমার সাথে দেখা করার জন্য। আমার দীর্ঘ কারাবাস ও নির্যাতনের ইতিবৃত্ত তার জানা। তবু তিনি আমার মুখ থেকে অনেক কিছু জেনে নিলেন। ইতিহাস থেকে অনেক দৃষ্টান্ত টেনে তিনি আমাকে সান্ত্বনা দেবার এবং আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেন। আল কোরআনের বিভিন্ন উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আমার হিম্মতকে আরও চাঙ্গা আরও উদ্দীপ্ত করার চেষ্টা করলেন। দীর্ঘ কারাবাস আর নির্যাতনে পরিশ্রান্ত এই মনটা আমার তাজা হয়ে উঠল। মনে হলো আমি আর একা নই। আমার পেছনে রয়েছে এক শক্তিমান মহাপুরুষ। আমি আমার নেতাকে আমার ইমামকে জানালাম- আমি কোন সময় আন্দোলনের প্রাণশক্তি থেকে দূরে থাকিনি। কোন অবস্থাতে কোন নৈরাশ্য আমাকে গ্রাস করতে পারেনি। এতকাল কারাগারগুলো ছিল বামপন্থীদের আখড়া এবং কমিউনিস্ট তৈরির কারখানা। হাজার হাজার কমিউনিস্ট তৈরি হয়েছে এই কারাগারে। আমার উদ্যোগে ইনশাআল্লাহ সে অবস্থা আর নেই। আমরা নিষ্ঠার সাথে কারাগারে সেই তৎপরতা চালিয়েছি। এর ফল হয়েছে আমাদের অনুকূলে। মুসলমানী জজবাত সম্পন্ন বহু বন্দী এখন ইসলামী আন্দোলনের সৈনিকে পরিণত হয়েছে। একাত্তরের বহু মুক্তিযোদ্ধা এখানে আমাদের সাথে, ইসলামী আন্দোলনের সাথে কাজ করার ব্যাপারে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়। আমাদের বহু নেতার কারাগারে পদচারণা বহুদিন থেকে অথচ কর্মের এত বড় ক্ষেত্রকে অবহেলা করেছেন অথবা এ ব্যাপারে কোন কিছু ভাবেননি। আমি আইজি অব প্রিজনস এবং ডিআইজি অব প্রিজনস সাহেবদের অনুমোদন সাপেক্ষে সমাজ কল্যাণ সংস্থার দায়িত্বশীল মুহাম্মদ ইউনুস ভাই-এর সহযোগিতায় কারাগারের লাইব্রেরিতে প্রচুর ইসলামী বই ও তাফহীমুল কুরআন এবং হাদীসের সমাবেশ ঘটাতে সক্ষম হই।

আলাপ আলোচনার মধ্যে মাগরিবের নামাজের সময় হলো। আমার কেবিনে অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেবের ইমামতিতে নামাজ আদায় করলাম। গোলাম আযম সাহেব দোয়া করলেন আমাদের ইসলামী আন্দোলনের সিপাহীদের জন্য। চক্রান্ত আর ষড়যন্ত্রের আবর্ত থেকে, জিল্লতি আর অবমাননার গ্রাস থেকে গোটা  জাতির মুক্তির জন্য সর্বশক্তিমানের দরবারে রাখলেন বিনীত নিবেদন। কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহলের অন্যায় অনাচারজনিত কারণে সমগ্র জাতির উপর সম্ভাব্য কুদরতি আযাব থেকে তিনি পানাহ চান। তার প্রাণের গভীর থেকে উৎসারিত দোয়ার আবেদন থেকে আমার মনে হলো- তিনি যেন গোটা জাতির নেতৃত্বে সমাসীন। সমগ্র জাতির ভাল-মন্দ কল্যাণ-অকল্যাণের সাথে তিনি একাকার। প্রায় ২ ঘণ্টা হক, ইনসাফ আর শরাফতীর মূর্ত প্রতীক অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেব আমাকে সাহচর্য দিলেন। তিনি জানালেন বাংলাদেশে ইসলামী বিপ্লব আসন্ন। মনে হলো ইরান থেকে উদ্ভুত ইসলামের বিশাল তরঙ্গ ভারত মহাসাগরের ওপর দিয়ে বঙ্গোপসাগরের কিনারে এসে আছড়ে পড়বে। আর এই তরঙ্গ-বিক্ষুব্ধ মহাকল্যাণের জোয়ারে আমরা ভাসব। এই নতুন জীবন প্রবাহ আর মুক্তির কালোচ্ছ্বাসে একাকার হবে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ার ১০ কোটি মানুষ। আহ, সেই দিনটি কবে, কখন আমার ঠিকানা কারার কপাটে আঘাত করবে। বিদায় নিলেন মহাপুরুষ আর রেখে গেলেন রোমাঞ্চকর অনুভূতি।

একদিন আমাদের আর এক নেতা ও তৎকালীন এমপি মওলানা আবদুর রহীম সাহেবকে হাসপাতাল থেকে টেলিফোন করলাম। কথা শুরু হতে না হতেই আমাকে এলার্ম দিলেন, বললেন- “কথা শর্ট কর। আমার অনেক কাজ।” এতে আমার আবেগ আহত হল। বললাম- ‘এ কারণেই আমি টেলিফোন করলাম, আমার জন্য আপনারা যে তদবির করেছেন তাতে আমার কাছ থেকে কোন কিছু জানার প্রয়োজন আছে কি না?’ জবাবে তিনি কি বললেন, ‘তা আমার মনে নেই।’ তবে দুপুরে তার বাড়ীতে খাবার দাওয়াত দিলেন।

সেদিনের আহত অনুভূতির মধ্যে খুঁজে পেয়েছিলাম- ইসলামী নেতৃত্ব জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণ কোথায়? আমাকে কেন্দ্র করে এমপি থেকে মন্ত্রী, সাংবাদিক থেকে সম্পাদক, ছাত্র থেকে জনতার এই যে তৎপরতা, তা আমার প্রাণের গভীরে আনন্দের স্পন্দন জাগালেও এর ফল শুভ হয়নি। আমার সাময়িক বিজয় হয়েছে হয়তোবা কিন্তু যে চিকিৎসার জন্য আমি এই হাসপাতাল কেবিনে সেটা আর হল না। আমার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট বার বার টেলিফোনকে তারা বাড়তি ঝামেলা আর উলকো নিপীড়ন ভাবলেন। আশঙ্কা করলেন, তারা আবার কোন সংকটের বেড়াজালে আটকে পড়েন। অতএব রুগীকে বিদায় দেয়া উত্তম। আমাকে দশ বার দিনের মধ্যে রিলিজ করে দেয়া হলো। আমি আবার কারাগারে ফিরে এলাম। শারীরিক অবস্থার ক্রমাবনতি হতে লাগল। আবার কারাগারের ডাক্তারদের শরণাপন্ন হলাম। ডাক্তাররা কারাগারে আমার সুচিকিৎসার ব্যাপারে অপারগতা ব্যক্ত করলেন। তারা আমাকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন। কিন্তু কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতাল কেবিনে থাকার যাবতীয় খরচ বহন করতে হয় রুগীকে। আমার যাবতীয় খরচ আমাদের সংগঠন বহন করতে থাকল। মেডিসিনের হেড, অধ্যাপক ডাঃ ইউসুফ আলী সাহেবের তত্ত্বাবধানে আমার চিকিৎসা শুরু হলো। এখানে যথানিয়মে পালাক্রমে ২ জন করে মোট ৬ জন পুলিশ আমাকে পাহারা দিয়ে রাখত। আগের মত এখানে আর পুলিশী নির্যাতন নেই কিন্তু ভিন্নধর্মী নির্যাতনের আয়োজন উদ্যোগ চলতে লাগল।

নির্যাতনের তেলেসমাতি যা একাত্তরে শুরু হয়েছে তার যেন শেষ নেই। একাত্তরে আমাদের রাজনৈতিক দর্শনের পটভূমিতে ভুল শুদ্ধ যা কিছু করে থাকি না কেন সেই ফেলে আসা দিনগুলোকে ওরা আমাদের কিছুতেই ভুলতে দিবে না। ১০ বছরের ব্যবধানেও নতুন প্রত্যাশা নতুন চেতনার আলোকে নতুন মঞ্জিলের দিকে এগিয়ে চলার উদ্যোগ নিলেও বিশেষ বিশেষ মহল একাত্তরের খুঁটিতে আমাদের পা-গুলো বেঁধে রাখতে চায়। ‘লেকিন কম্বল নেহি ছোড়তা’ আমরা যেন এমনএক অবস্থায় রয়েছি। বামপন্থী নেতা ও আওয়ামী লীগ নেতার টেলিফোন আসতে লাগল ডাঃ ইউসুফ আলীর কাছে। তাদের সবার একই প্রশ্ন- আলবদরের কমাণ্ডারকে হাসপাতালে পোষা হচ্ছে কেন? কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠে যার ঠিকানা তাকে মেডিকেল কলেজের কেবিনে কেন এমন যত্ন-আত্তির মধ্যে রাখা হয়েছে, এটাই তাদের প্রশ্ন। বার বার বলা হচ্ছে- তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দিন। প্রফেসর ইউসুফ সাহেব শুধুমাত্র বলেছেন- ‘আমি ডাক্তার, আমিন সাহেব আমার রুগী। কে আলবদর, কে রাজাকার, কে মুক্তিফৌজ, কে সন্ত্রাসবাদী সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। সেটা দেখবে আদালত অথবা প্রশাসন। আমি দেখব রুগী। কোন হুমকি অথবা কোন প্রভাব আমার দায়িত্ব থেকে আমাকে বিরত রাখতে পারবে না।’

আমার পাশের কেবিনগুলোতে ছিলেন কাদের সিদ্দিকীর বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী, ফণীভূষণ মজুমদার, শ্রমিক লীগের বজলুর রহমান (পাবনা), কমিউনিস্ট পার্টির কমরেড ফরহাদ এবং মুসলিম লীগের এমপি ইব্রাহীম খলিল। এদের মধ্যে লতিফ সিদ্দিকী ও ফণীভূষণ মজুমদার বাইরের ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। আমার যেন হাসপাতালে ঠিকমত চিকিৎসা না হয় সেজন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ, হুমকি প্রদানের ব্যাপারে ঐ দু’জনের যথেষ্ট ভূমিকা ছিল। কিন্তু ফরহাদ ভাই ও শ্রমিক নেতা বজলুর রহমানের ভূমিকা ছিল নির্লিপ্ত। ডাঃ গোফরান, ডাঃ একে এম খোরশেদ আলম, ডাঃ শওকত, ডাঃ নজরুল, ডাঃ সরকার মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও ডাঃ নূরুল ইসলাম সর্দার ডাঃ এনাম, ডাঃ দীল বাহার সতর্ক দৃষ্টি রাখতেন। কোন মানসিক ভীতি আমাকে গ্রাস করতে পারেনি। কেননা হাসপাতালের সমস্ত ডাক্তার, নার্স, এমনকি মেডিকেল কলেজের ছাত্রনেতা ইদ্রিস আলী, ছাত্র নেতা ডাঃ এম আই ফারুকী, ডাঃ হাফিজ ভাই ও অন্যান্য ছাত্ররা বিশেষ সহানুভূতি নিয়ে চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করতেন। এ কারণে বাইরের কোন হামলার ভয় আমি অতটা করতাম না।

তবে যেদিন জিয়াউর রহমানের মৃত্যু হয় সে দিনটা উদ্বেগের মধ্যে কেটেছে। দু’জন মাত্র প্রহরী। প্রশাসনে শিথিল অবস্থা বিরাজ করছিল সর্বত্র। এ ছাড়া সংগঠনের তরফ থেকেও কেউ সেদিন যোগাযোগ রক্ষা করেনি। এতে একটু বিচলিত হয়ে উঠি। প্রতিপক্ষের কোন গ্রুপ আমাকে আঘাত হানতে চাইলে সেদিনটি ছিল তাদের জন্য উত্তম সময়।

যা হোক, যুব মুসলিম লীগ নেতা ইব্রাহিম খলিল (এমপি) ক্যান্সার রোগের চিকিৎসার্থে জুন ’৮১-র প্রথমদিকে কোন একদিন হাসপাতাল কেবিনে ভর্তি হন। আমার প্রিজন কেবিন থেকে একটু দূরে লতিফ সিদ্দিকীর  কেবিনের দক্ষিণ পাশে ছিল তার কেবিন। তার সাথে পরিচিত হতে এবং তার অসুস্থতার খোজ খবর নিতে তার কাছে ছুটে গিয়েছি। তাছাড়া সমমনা হওয়ায় এবং অন্তরের টানে সাক্ষাৎ জরুরী মনে করেছিলাম। আমার পরিচয় বললে তিনি অতি আন্তরিকতার সাথে আমার সম্পর্কে জানার আগ্রহ দেখান। তার অসুস্থতা এবং রোগজনিত কষ্টের কথা চিন্তা করে আমার ইতিবিত্ত সংক্ষেপে তাকে জানালাম। সেই থেকে নিয়মিত তার কেবিনে যাওয়া আসা, কথা-বার্তা চলতে থাকে। এ সময় তার পরিবরের সদস্যবর্গ এবং ইব্রাহিম ভাইয়ের সহধর্মীনী মহিয়ষী ভাবীসহ মুসলিম লীগ নেতাদের সাথে দেখা হতো এবং তাদের সাথে আলাপ পরিচয় ঘটতো।  ইতোমধ্যে ইব্রাহীম খলিল ভাইয়ের স্বাস্থ্যের অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার লন্ডনে প্রেরণ করে। যাওয়ার সময় আমার প্রিজন কেবিনে সেই মহিয়ষী ভাবী বিদায় ও দোয়া নিতে এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সেদিনের সে কান্নার দৃশ্য আজও আমার অন্তরে দেদীপ্যমান। একদিন পত্রিকায় দেখলাম ইব্রাহীম খলিল সাহেব আর বেঁচে নেই। লন্ডনের হাসপাতালে তিনি ২৫/২৬ জুন ’৮১ তারিখ সম্ভাবত তিনি মারা যান। অঙ্কুরেই এক সম্ভাবনাময় নেতার  জীবনাবসানে আমি দারুণভাবে মর্মাহত হয়েছিলাম।

তখনও আমি প্রিজন কেবিনেই রয়েছি। তবে কিছুদিনের মধ্যেই মুক্তি পাবো- এরকম একটি প্রত্যাশায় প্রহর গুণছি। অতঃপর সেই কাংখিত মুক্তির পর সময় করে ইব্রাহিম ভাইয়ের পরিবারের সদস্যবর্গের সাথে দেখা করি। ভাবী ও সন্তানদের সালামত কামনা করে চলে আসি।

একে একে ৭টা মাস আমি হাসপাতালে কাটালাম। এ ক’টা মাস ডাঃ ইউসুফের স্নেহ আর মমত্ববোধের বেড়া যেন আমার চারিদিকে নিরাপত্তার বেষ্টনী সৃষ্টি করে রেখেছিল। মনে হয়েছিল এই হাসপাতালটা আমার জন্য সবচাইতে নিরাপদ আশ্রয়। অধ্যাপক ইউসুফ আলী সাহেব আমাকে বলতেন- ‘তোমাদের সংগঠনকে তৎপর হতে বলো। তাড়াতাড়ি তোমার মুক্তির ব্যবস্থা করুক।’ তিনি চাইতেন না আমি আবার কারাগারে অন্ধ প্রকোষ্ঠে ফিরে যাই। তিনি অন্যান্য সহযোগী ডাক্তারদের বলতেন- ‘আমিনকে আমার এ জন্য ভাল লাগে যে তার মধ্যে রাখ ঢাকের কোন প্রয়াস নেই।’

অধ্যাপক ইউসুফ হিন্দুস্তান থেকে হিজরত করে এসেছেন। হিন্দু মানসিকতা সম্বন্ধে আমাদের চেয়েও অনেক বেশী তিনি সচেতন। একাত্তরে আমাদের প্রতি হিন্দুস্তানের উচ্ছ্বসিত দরদের অন্তরালে কী গভীর ষড়যন্ত্র ছিল সেটা তার মত বিজ্ঞ লোকের অজ্ঞাত থাকার কথা নয়।

একাত্তরে আমাদের ভূমিকায় কি গভীর দেশপ্রেম, কি নিবিড় জাতীয় অনভূতি লুকিয়ে ছিল সেটা কিছুসংখ্যক ষড়যন্ত্রকারী পরিস্থিতির দুর্বল পর্যবেক্ষকদের মনে দাগ কাটতে সক্ষম না হলেও সচেতন মানুষগুলো ঠিকই অনুভব করতো। ডাক্তার ইউসুফ তেমনি সতর্ক মানুষ ছিলেন। এ কারণে আমার প্রতি তার দরদ ছিল অপরিসীম।

আমি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থাকা অবস্থায় জানতে পারলাম আমার মুক্তির দিন আসন্ন। কেননা প্রেসিডেন্ট সাত্তার ঈদ উপলক্ষে ৬ জন রাজবন্দীর মুক্তি ঘোষণা দেন তার মধ্যে রয়েছি আমিও। আমার সাথে আর যারা ছিলেন তারা সবাই মুক্ত হলেও আমি মুক্ত হতে পারলাম না। কেননা তখনও আমার আরো কিছু মামলা রয়ে গেছে ঝুলন্ত অবস্থায়।

শেষ দিকে এসে আমার দলীয় নেতৃবৃন্দের বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করলাম। এতদিন কেবিনে থাকার ব্যাপারে সংগঠন উদারভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে এসেছে। মুক্তির কিছুদিন আগে দলের সমাজকল্যাণ বিভাগের দায়িত্বশীল, ইসলামী ব্যাংকের ডাইরেক্টর মুহাম্মদ ইউনুস ভাই আমাকে খবর পাঠালেন যে অতি সত্বর মুক্তির ব্যাপারে আমি কোন ব্যবস্থা করতে না পারলে সংগঠনের বিশেষ কিছু করার থাকবে না অর্থাৎ আমাকে কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠে ফিরে যেতে হবে। দুঃখ পেলাম এই ভেবে যে, সংগঠন এখনও সংকীর্ণতার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে।

এতদিনে আমার ভুলটা আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠল। ইরানের বিপ্লবের ব্যাপারে আমার যে উপলব্ধি সেটা আমার সাথে সাক্ষাত করতে আসা দলীয় কর্মী ও নেতৃবৃন্দের কাছে অকপটে বলতাম। ইরানের বিপ্লবের সপক্ষে আমার বক্তব্যগুলো বুমেরাং হয়ে ফিরে আসল আমার দিকে। সংগঠনের সহানুভূতি ও মদদ দুটোই আমি হারাতে বসলাম। এতে আমি মর্মাহত হইনি মোটেও কেননা ৪০ বছর কারাবাসের মানসিক প্রস্তুতি আমার এর আগেই নেয়া ছিল। তাদের এই সংকীর্ণতা আর হীনমন্যতা দেখে মহান আল্লাহ সম্ভবতঃ আড়াল থেকে হেসেছিলেন। তা না হলে প্রেসিডেন্ট সাত্তারকে দিয়ে আমার মালিক আমার মুক্তির জন্য শেষ ঘুঁটি চালালেন কেন? যাই হোক, আমার ঝুলন্ত মামলাগুলোর ব্যাপারে হাসপাতালের কেবিন থেকে আমি নিজেই তদবির করলাম। অবশেষে একাশির ২৬ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেলাম।

মুক্তি পাবার দিন হাসপাতালের ডাঃ গোফরান, ডাঃ একে এম খোরশেদ আলম, ডাঃ এনাম, ডাঃ শওকত, ডাঃ নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন মহিলা ডাক্তার আরও অন্যান্য ডাক্তাররা আমার একটা বিদায় সম্বর্ধনার আয়োজন করেন। সেই সভায় জামায়াত নেতা কামরুজ্জামান সাহেব, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু তাহের ভাই উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রনেতা ডাঃ মোঃ ইদ্রিস আলী, মেডিকেল কলেজের জিএস জনাব সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, ডাঃ হাফিজুর রহমান, ডাঃ দীল বাহার ও অন্যান্য ছাত্ররা মিলে আমাকে একটা পারকার কলম উপহার দেন।

এখন আমার বিদায়ের পালা। মুক্ত পৃথিবীর অবারিত আলোর মধ্যেও আমি অন্ধকার দেখছি। কোথায় যাবো? আমার লক্ষ্য স্থির করতে পারছিলাম না। অধীর আগ্রহে সংগঠনের নেতৃবৃন্দের প্রত্যাশা করছিলাম। পরবর্তীতে মনে হলো, এ প্রত্যাশা ভুল। কেননা আমি কোন বামপন্থী আন্দোলনের কর্মী নই যে আমার নেতা মানসিকভাবে চাঙা করার জন্য তার কর্মীর নিকট ছুটে আসবে। আমাদের সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে আব্বাসীয় আভিজাত্যের প্রশ্ন জড়িয়ে আছে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে একটা গাড়ী এলো, কিন্তু সেটা সংগঠনের নয়। উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক আবদুস সালাম পাঠিয়েছেন। দুঃখ-সুখের মিশ্র অনুভূতি আমাকে গ্রাস করলো। দুঃখ যে সংগঠনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আমার উদ্দাম যৌবনের সোনালী দিনগুলোতে নিরলস পরিশ্রম করেছি, যাদের নির্দেশে বন্দুকের নলের মুখে দাঁড়িয়েছি, যাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য ১০ বছর কাটালাম কারাগারে, আমার মুক্তির দিনটিতে তাদের প্রত্যাশা করেও পাইনি। আর সুখ- যাদের ব্যাপারে আমার কোন আগ্রহ নেই, যার সাথে কারাগারে ক্ষণিকের আলাপ-পরিচয়, সেই তৎকালীন উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক সালাম সাহেব আমার জন্য গাড়ী পাঠিয়েছেন। কি বিচিত্র মনে হয়েছিল সেদিন। ভাই মুহাম্মদ ফারুক সহ সালাম সাহেবের বাসায় গেলাম। তার নিজস্ব লোকজন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক সভায় ব্যস্ত ছিলেন তিনি। তবু উঠে এলেন, এসে জড়িয়ে ধরলেন আমাকে। কি আনন্দ লেগেছিল সেদিন। তার অভ্যর্থনা আর আপ্যায়ন আমাকে লজ্জা দিয়েছিল। হয়তো পরিবেশগত সংকীর্ণ মানসিকতা নিয়ে আমি তার জন্য অতটুকু করতে পারতাম না। হিতাকাংখী হিসেবে তিনি আমাকে গাইড লাইন দিলেন। গ্রামের বাড়ীতে না যাওয়ার, কিছুদিন রাজনীতি থেকে বিরত থাকার এবং ঢাকায় অবস্থান করার উপদেশ দিলেন। তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এলাম আমি আজিমপুরে শিবির নেতা মুহাম্মদ এনামুল হক ভাই-এর মেসে। আমার সাথে ছিলেন ফারুক ও মালেক ভাই। এখানে আমি মাস খানেক অবস্থান করলাম। এনাম ভাই সেখান থেকে চলে যাওয়াতে একটুখানি সমস্যার মুখোমুখি হতে হলো। কিন্তু আমার মালিক আমার জন্য আরো সুন্দর ব্যবস্থা করে দিলেন।

প্রফেসর ডাক্তার ইউসুফের সহযোগী ডাক্তার এ কে এম খোরশেদ আলম ভাই বর্তমানে তিনি পিজির সনামধন্য প্রফেসর হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তার কোয়ার্টার ফ্রি করেদিলেন আমার জন্য। এখানে থাকা অবস্থায় অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেবের অনুগ্রহে বিআইসিতে আমাকে একটা চাকুরী দেয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান ছিলেন অধ্যাপক নাজির আহম্মদ সাহেব। এখানে খুব বেশী দিন এ্যাডজাস্ট করে থাকতে পারলাম না। জেলে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন মত ও পথের বিভিন্ন নেতার সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল। তাদের অনেকেই আমার কাছে টেলিফোন করতেন। যা কর্তৃপক্ষ পছন্দ করতেন না। আমার অবর্তমানে টেলিফোনকারীরা সাধারণ সদ্ব্যবহারটুকুও পেতেন না। প্রায় সবাই আমাকে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন। কর্তৃপক্ষের আচার আচরণ থেকে আমি বুঝতে পারলাম যে এখানে আমি একজন চাকুরীজীবী ছাড়া কিছুই নই। এখানে আমার সাংগঠনিক দাবীও কিছু নেই। এ অবস্থায় বেশি দিন থাকা সংগত মনে করলাম না। আল্লাহর পৃথিবী অনেক বড়। আমি স্বাধীনভাবে রুটি রুজীর অন্বেষণ করা অধিকতর উত্তম মনে করলাম। সামান্য পয়সার বিনিময়ে কতিপয় দাম্ভিক মানুষের কাছে আমার স্বাধীন সত্তা ও সংযত বিবেক বন্ধক রাখা কিছুতেই মেনে নিতে পারলাম না। আমি আর এক কারাগার থেকে উন্মুক্ত দিগন্তে ডানা মেললাম। এতে আমার কষ্ট হয়েছে, তাতেও সুখ। পিঞ্জিরায় আবদ্ধ তোতা পাখীর মত ছক-বাঁধা মুখস্থ বুলি আবৃত্তি করে কাটানোর সুখকে আমি ঘৃণা করি। আমি চাই উদ্দাম ঝড়ো হাওয়ায় দুরন্ত ডানা মেলতে। অন্তরের আবেগ উজার করে মুক্তির গান গাইতে।

আল্লাহর বিরাট পৃথিবীর আমি একজন। আর এ সমগ্র পৃথিবীটা যেন আমার। হক আর ইনসাফের দীপশিখা নিয়ে এগিয়ে চলার দুঃসাহস যার বুকে পুঞ্জীভূত সেতো বিধি-নিষেধ আর জ্যাঠামীর বেড়াজালে নিজেকে আটকে রাখতে পারে না। আমিও পারিনি।

কারামুক্তির পর বাইরের উন্মুক্ত আলো-বাতাসে এসে জীবন ও জীবিকার দিকটা যখন চিন্তা করতাম তখন আমার সামনে একরাশ নৈরাশ্য ছাড়া কিছুই দেখতাম না। জীবন থেকে আমার দশ বছর খসে গেছে। প্রগতি থেকে আমি দশ বছর পিছিয়ে গেছি। বিবর্তিত রাজনীতি ও সামাজিক অবস্থানেও আমি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। যেন আমি ভিন্ন গ্রহ থেকে এসে পা রেখেছি এই গতিশীল পৃথিবীতে।  জীবনের আঁকাবাঁকা পথগুলো আমার সব অচেনা। এমন সংকটের দিনগুলোতে যে লোকটি আমার হাত ধরে এই অচেনা পথে একপা একপা করে এগিয়ে নিয়ে গেছেন তিনি হলেন- সাবেক গভর্নর আবদুল মোনেয়েম খান সাহেবের পুত্র খসরু ভাই। বরাবরই তিনি আমাকে স্বাধীন জীবন ও জীবিকার কথা বলতেন। খসরু ভাই তার দরাজ দীল নিয়ে আমার পাশে আসেন। তিনি বলেন- ‘আপনি তো আমার ভাই। আমি আপনার পাশে রয়েছি।’

সংকট উত্তরণে আমার একক প্রচেষ্টার পাশাপাশি অন্যান্যদের সাথে তিনি নিজে চেষ্টা তদবীর সহযোগিতা দিয়ে স্বাধীন অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ার ব্যাপারে বলতেন আরোও বলতেন- ‘আপনার যে কোন প্রয়োজনে আমি রয়েছি।’ এমন কি তার পরিবারের সদস্য হয়ে তার গৃহে অবস্থান করার জন্যও আমাকে বলেন।

আমি কারাগারে অন্তরীণ থাকাকালে খসরু ভাই, এডভোকেট হুমায়ুন ভাই এমপি (সাবেক) তার পরিবারের সকলের নেপথ্য আন্তরিকতা আমাকে বেষ্টন করেছিল। কত যুগ আগে তার পরিবারের সাথে আমাদের আত্মিক যুগ হয়েছিল তা বলা মুশকিল তবে সেই সূত্র ধরে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে থেকেও খসরু ভাই আত্মীয় না হলেও আমার মন-মানসিকতায় অনন্য ব্যক্তিত্ব হয়ে আছেন।
আমার স্বাধীন জীবন যাপনের জন্য সাহায্য ও সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করেছেন ইশ্বরদীর মজিদ ভাই, যার কথা আমি আগেই উল্লেখ করেছি। এছাড়া নাসের ভাইয়ের সহযোগিতা কম পেয়েছি এমনটি বলা যাবে না। ইকবাল খান, ইঞ্জিনিয়ার জমশেদ (বর্তমানে রাওয়ালপিণ্ডিতে অবস্থানরত), ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার দিদারুল ইসলাম, সোলাইমান, আনোয়ার, কামাল, এডভোকেট আমিনুল ইসলাম, এডভোকেট তারিকুল ইসলাম (মোহন), বিশেষজ্ঞ ডাঃ আফসার সিদ্দিকী, বিশেষজ্ঞ ডাঃ আব্দুল্লাহ ভাইয়ের সহযোগিতাও আমাকে যথেষ্ট প্রেরণা দিয়েছে। এদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ, আমি ঋণী। জীবনভর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আমি তাদের সেই ঋণ পরিশোধ করতে থাকবো।

 

Comments  

 
+14 # 2009-09-17 08:07
কে এম আমিনুল হকের লেখা "আমি আলবদর বলছি" বইটি পড়লাম। ইতিপূর্বে ডা. ফিরোজ মাহবুব কামালের "একাত্তরের আত্মঘাতের ইতিহাস" সহ প্রফেসর সাজ্জাদ হোসাইনের "একাত্তরের স্মৃতি" এবং প্রফেসর মুমিন চৌধুরির "Behind The Myth of 3 Million" বইগুলিও পড়েছি। সবগুলি বই খাটি তথ্য নির্ভর এবং অসাধারণ যুক্তি সমৃদ্ধ। যতই পড়ছি ততই হতবাক হয়ে যাচ্ছি বর্তমান সময়ের মিথ্যার জয়জয়কার দেখে।

আমি স্বাধীনতাপন্থিদ ের লেখা ইতিহাসও পড়েছি। কিন্তু তাদের লেখায় পাকিস্তান এবং পাকিস্তান পন্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ও বিষদগার ছাড়া তেমন কোন নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। ঐতিহাসিক মান ও সমসাময়িক যুক্তির নিরিখেও সেগুলো আলচ্য বইগুলোর আশে-পাশে আসার যোগ্য নয়। কিন্তূ তারপরেও সত্যের এই পরাজয় কেন? আমার কাছে মনে হয়েছে যারা মিথ্যা প্রপাগান্ডার শিকার তাদের সীমাহীন অযোগ্যতা ও একাগ্রতাহীনতাই আজকের এই অবস্থার জন্য দায়ী। অবাক হই বাংলাদেশের ইসলামী দলগুলোর স্বাধীনতাত্তোর ভুমিকা দেখে। তাদের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে প্রপাগান্ডা চলেছে এবং চলছে। তারা এত আন্দোলন-সংগ্রাম করে, অথচ এই সত্য কথাগুলো আমরা নতুন প্রজন্মদের সামনে কখোনও তুলে ধরার চেস্টাই করেনি। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই তথ্যগুলো যদি আমাদের কাছে না আসত তাহলে এই সত্য কখনোও জানতামই না। (মুলতঃ ডা ফিরোজ কামালের লেখা "একাত্তরের আত্মঘাতের ইতিহাস" বইটি পড়ে এই জাতির ইতিহাস জানার প্রচন্ড আগ্রহ সৃষ্টি হয়।) এই আমি কিছুদিন আগ পর্যন্তও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে অহরহ দাবী করতাম একাত্তরে তাদের ভুমিকার জন্য জাতির কাছে মাফ চাইতে। অথচ এখন আমার মনের অবস্থা এই যে, ভবিষ্যতে যদি আবার কখোনও এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয় তবে পরিণতির কথা না ভেবেই ঐ একই ভুমিকা নেওয়া উচিত যা তারা একাত্তরে নিয়েছিল।
যাইহোক আমার বিশ্বাস এই অবস্থা একদিন থাকবে না। তার প্রমাণ আজকের এই বইগুলো। আমি মনে প্রাণেই বিশ্বাস করি তথাকথিত জাতির পিতাকে ইতিহাস একদিন মিরজাফরের কাতারে দাঁড় করাবেই। তার চিহ্ন ইতিমধ্যে ফুটে উঠা শুরু হয়েছে। আমি বাংলাদেশকে এখনও কিছুটা স্বাধীন মনে করি। তবে সে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে, তথাকথিত ষোলই ডিসেম্বর নয়।

এখন আসি কিছু গুরুত্বপুর্ণ কথায়। "Behind The Myth of 3 Million" এবং "The Wastes of Time" বইগুলি যারা উচ্চ শিক্ষিত এবং ইংরেজিতে সাহিত্য পড়ার অহরহ অভ্যাস আছে তাদের জন্য। কিন্তু বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষিতরা এখনও সেই মানে পৌছায়নি। তাই ঐ বইগুলি বাংলা অনুবাদ বের করা যায় কিনা তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
আমার হৃদয় নিংরানো সালাম ও শ্রদ্ধা জানাই প্রিয় ভাই কে. এম. আমিনুল হককে। তিনি যদি তার বাকি বইগুলো শিঘ্রই এই ওয়েব সাইটে সরবরাহ করতেন তবে আমরা যার পর নাই উপকৃত হতাম।
পরিশেষে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে এই বলে প্রার্থনা করি, এই উদ্দগে সংশ্লিষ্টরা যেন আরও অধিক দিন বেঁচে থেকে মুসলিম জাতির এই মহান খেদমতে আন্জাম দিতে পারেন। আমিন। শামীম (কোরিয়া থেকে)
Reply | Reply with quote | Quote
 
 
+8 # 2010-08-17 08:42
আমি শামীম ভাইয়ের সাথে সম্পূর্ন একমত। আমরা অনেক কিছুই জানিনা, আমরা সত্য ইতিহাস জানতে চাই। এই সাইটের বইগুলো পড়ে আমি স্তম্ভিত হয়ে পড়েছি, অনেক অজানা তথ্য জানা গেল। আরো বই আপলোড করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
Reply | Reply with quote | Quote
 
 
+3 # 2009-11-02 17:38

Having read some pages of the book, I felt that I should write a few lines on the literary merits of it. Many a book goes beyond their discursive setting to please the readers of other disciplines, such as Edward Gibbon’s THE HISTORY OF THE SARACEN and THE HISTORY OF THE DECLINE AND FALL OF THE ROMAN EMPIRE; they are read for their literary merits more than their original objective as being historical work. This piece of writing of the author is almost similar. Once you start reading it, the narrative quality doesn’t seem to let you go of it. I would recommend readers of any persuasions, including political, to read it; no one needs to be persuaded to believe or accept what he had written, but simply to appreciate the ‘authorial energy’ that he had induced into narrative; you cannot escape it.

Reply | Reply with quote | Quote
 
 
+3 # 2010-07-07 15:16

My only and eager request to you and all people like you to write in details, ins and outs of that war, all facts in the form of text and online version. Plz spread these information to Bangladeshi people and to the whole world. I really get many untold and hidden facts which must be disclosed to the whole nation. By the will of Almighty, truth will prevail, today or tomorrow. "Man is unjust but God is just, finally justice triumphs."

Reply | Reply with quote | Quote
 
 
+2 # 2012-09-23 01:31

InshAllah! Truth has to come out a day - This is Allah's promise. He knows well about His secrets when to disclose.

Reply | Reply with quote | Quote
 
 
-5 # 2011-08-19 13:32

I am always interested in perspectives and views from all sides of an issue. As a result I have spent considerable time reading through this site and Dr. Kamal's writing, etc. What I have failed to understand is the deep love and importance of Pakistan to proponents of these views. After 40 years why does Pakistan matter at all? What is the relationship between Islam and Pakistan? Have you kept up with Pakistan? Do you see what a terrible, repressive mess that country has become? Are you not glad that we are not a part of that misery any more? Have you considered the view-point that Pakistan was created as a buffer state for the Western powers and served it's role faithfully till date while not serving it's own people at all.

Reply | Reply with quote | Quote
 
 
+3 # 2011-08-19 22:41
Thanks for your comment. The questions you raised are some of the most common we often get asked. The main reason behind the launching of this website is to provide an online archive of books and publications that reveal the different prospectives. It's almost impossible for anyone in Bangladesh to find proper historical facts regarding the creation of BD. From the inception of BD till to date the history books were and still being written by corrupt so-called historians. None of their books contain fact based analysis. Rather they are based on fantasy stories and character assassinations. The situation of BD is the classic example of the saying "When good men do nothing, evil triumphs." Even though there are some writers who tried to propagate the truth, the sheer numbers of filth and the state sponsorship to promote those filths had made those quality publications almost impossible to locate. Therefore, we have taken the initiative to make those books widely available. It's as simple as that! Nothing else. Our aim is not to propagate any political or ideological movement; neither do we seek to return BD as East Pakistan. (Although currently, both Pakistan and Bangladesh are almost in similar situation- morally, culturally, economically, socially bankrupt.) It's just an Online Archive!

It's not about whether Pakistan matters or not. It's about the historical lessons. It's about uncovering the lies, deceits and criminal activities which culminated in the illegitimate birth of BD. It's about fighting the propaganda which still swamps BD history, where criminals are being portrayed as national hero. Learning from history is very important as history has an uncanny knack of repeating itself. Therefore, someone who claims to be "always interested in perspectives and views from all sides of an issue" shouldn't get agitated when presented with arguments from "other side."

As for your argument about Pakistan now being a failed state- it's totally irrelevant in this context. What if in 5 years time Bangladesh becomes a failed state? (at the moment it's not really far from it!) Would that be a reason enough to change your mind (Assuming you are a proponent of Mujib's idea)? If that's the case, then the reasoning's behind such idea is shamefully fickle. The important thing that should matter is the honesty, sincerity and conviction of people behind a movement. A movement which lends itself to lies, racism, cowardice, treachery is not something to be proud of. As a Muslim a good intention behind an act is all that should matter. What will happen in the future is beyond our control. You cannot judge something with the benefit of hind-sight. So, whether Pakistan is now a failed state or not has no significance when analysing the thought process of the people who fought for the idea. Similarly, if Bangladesh becomes a very successful country, it shouldn't justify the fact that it was created by the masses of shameless collaborators of India.

Also it would be better not to amuse yourself by looking at the current plight of Pakistan. Who knows what calamity will befall us 5 years from now? It's not as if Bangladesh is Singapore. It's still a semi failed country almost a proxy state of India. Can't you see how India is depriving us of water, killing our citizens at borders- and all we can do is absolute zilch? So its a bit rich for us to claim to be in better condition. Anyway, as mentioned before, that's not the point. It is often the case with typical pro India/ BAL supporters who fail to understand this simple analogy.
Reply | Reply with quote | Quote
 
 
+2 # 2012-09-23 02:04

Your comment raises another question. What would you say about the generation that actively struggled for freedom and Pakistan movement (In Fact, Muslim League was born in Dacca by a Bengali Nawab)? If Pakistan was created as buffer state for West, BD remained part of that. If your comment is considered correct, don't you think that the same Western Powers changed the game plan and they created Bangladesh?

If not for any other reasons, still for one reason, We all demanded a separate country in the name of Islam and so is the relationship between Islam and Pakistan. You can't claim this because BD's creation based on "Our hands were tied". Ask the souls of your forefathers about the relationship b/w Islam and Pakistan too. If you think creation of Pakistan was a sin, they are equally responsible for this "Sin".

Misery, repressive mess or the similar words about Pakistan are really disgraceful and displeasing. What media is portraying is not the real face of Pakistan. Whether its Heaven or a Living Hell, it is our country and no one has the right to use such remarks about it. We respect your views, your freedom and we feel more pleased than anyone else in the World whenever BD makes one step forward towards prosperity. Irrespective of the past, we consider BD a younger brother whether you consider us or not.

Reply | Reply with quote | Quote
 
 
-3 # 2011-08-20 17:35

Thank you for your response. I would like to respond to some of your comments.

I am not agitated at all and am glad you are providing perspective from the "other side". I am also sure there may be some lies, conceit, misinformation and propaganda involved in the creation myth of Bangladesh. It was so in the case of the birth of India and Pakistan. That is true for the birth of most nation states, civilizations, political entities and even religions. If truth is ultimately what you seek, you should consider the propaganda of your side carefully and not self-righteously assume your perspective to be the 'whole, unalloyed truth'. All that is written or said about the creation of Bangladesh is not myth and all historians are not corrupt or in the pocket of any one ideology. Some historians will try to unearth the truth and the truth has a neat way of emerging over time (Ibn Khaldun) whereas ideologists will constantly try to impose their view of the 'truth' on others.

Also, your claim that the birth of Bangladesh is illegitimate raises questions. Who decides if it is illegitimate? What gives legitimacy to such an outcome? Was the division achieved by Nehru-Jinnah-Radcliffe-Mountbatten legitimate? Was Nehru or Jinnah any less vain or power-hungry than Sheikh Mujib? Are the borders of the nation-states anywhere in the world today legitimate? One may like a border and another may not, in the same way that one man's freedom-fighter is another's terrorist. The question is not one of legitimacy of the arguments and propaganda of the two sides, but whether the majority of the peoples aspirations are reflected in the outcome. I think there is little doubt that the majority of East Pakistanis wanted to secede and are at peace with the separation. Perhaps, it's high time you accept this reality as well.

I would also like to clarify that I did not call Pakistan a 'failed state' nor am I amused by its current plight. There is no reason to relish in anyone's misery. However, it remains true that we don't have to deal with the particular problems that Pakistan is facing in addition to the many issues that plague us. We are struggling along our own path towards a better Bangladesh. We may not succeed, but at least our hands are not tied by West Pakistan or by the issues and limitations of West Pakistan. You did not address my earlier statement about how Pakistan has utterly failed to serve it's own people (of the west or east) over it's history. However, till date it has continued serving it's western masters needs of a buffer state at that location.

Also, the sides in this argument or discussion are not divided neatly into Pakistani collaborators and Indian collaborators. I cringe when I hear AL sympathizers call anyone who opposes them to be 'Pakistan Collaborators'. Likewise, I cannot appreciate your comment about the opponents to your ideology and those involved in the independence struggle of Bangladesh being 'Indian Collaborators'. The whole independence movement of Bangladesh was not simply a struggle between those two sides. Are you completely ignoring the history of agitations in East Pakistan and oppression of the East by the West? In the history of 25 years together the Eastern side never achieved proportional representation. Are you forgetting that while 30 million Bangladeshis most definitely did not die in 1971, several million did? The number is surely several orders of magnitude higher than those that died or suffered on your side (not to minimize deprivation, suffering or injustice suffered by anyone).

To finish , let me go back to my point that Pakistan itself is absolutely irrelevant to us now that 40 years have passed since the civil war and the two have indeed parted ways. The only reason it remains in the current narrative is because people of your ilk are holding on to it. Hence, my questions earlier. However, India remains relevant for many reasons including our shared borders and water resources. I agree that we should remain vigilant in defending these borders and maintaining our autonomy. While this may be difficult and India will constantly try to violate our independence, our history tells us that it is achievable (200 + years of independent Muslim Sultanate in Bengal after the Tughlaq dynasty). Let's worry about this challenge and let the issue of Pakistan pass. The issue is anachronistic and has passed just as water under a bridge.

Reply | Reply with quote | Quote
 
 
+8 # 2011-08-21 11:56
I agree with you that it’s not uncommon to find lies and misinformation in historical documents of most nations, states, civilizations etc. But I’ve yet to know of any which have such rampant falsification as it is the case with Bangladesh’s creation. We do indeed consider each publications and the quality of analysis they provide very carefully. So far we haven’t come across any books supporting the secessionist movement offering similar quality of analysis. If you know any then feel free to share. We do not hoist any book which relies on character assassination or vengeance. Can you give evidence supporting your claim that any of the books in this website is such? Nowhere in this website it’s claimed that the perspective these books are providing are ‘whole, unalloyed’. No human being should claim that. As mentioned before we are simply providing a different viewpoint than those prevalent in BD now a day. The current generation has almost no exposure to these. It’s up to the readers if they think whether it’s superior to those. If your complain is about imposing a view then, I’m afraid you are directing it to the wrong people.

Ofcourse, I also wish someone would try to unearth the truth and hope the truth do emerges over time. But do you honestly believe that pro-separatist are keen to provide such conducive environment? Given the morally corrupt ideology of such people, it’s no wonder why they try to forcefully repress anyone trying to publish the other side. Each year during the February book fair how many publishers comes up with such books? Rest assured none will be more pleased if Ibn Khaldun’s quote you mentioned comes in to fruition.

I still stand by the essence of the comment I made earlier about the birth of Bangladesh. Perhaps ‘illegitimate’ wasn’t the appropriate word. I should’ve rather put “disgraceful”. Comparing someone like Mujib to Nehru-Jinnah is to compare cheese to chalk. Mujib is in different class due to his utter criminal intent. He proved it during his absolute rule by massacring thousands of his own people. Where did you see Jinnah doing so? Sheikh Mujib solely relied on whipping up mobs into frenzy by his rhetoric. He never believed in something constructive. His whole political career bears testament to that. Pre 1971, no where did Mujib publically mention the secession of East Pakistan. Rather he indulged in covert, deceitful collaboration with India. I know it’s a common trait for all pro-Mujib to hate Jinnah. But no where they can find evidence that Jinnah sleep walked Bengalis in to joining Pakistan.

How can you say peoples aspirations were reflected in the outcome? Was that part of Awami League’s constitution prior to the election? You might say the successful birth of Bangladesh in itself proves your point. But without India’s active support that would have never achieved. India chose to support the secessionists from the sideline, but when it realised there’s no hope for them to succeed then it chose to join in- realising such opportunity may never come again.

You cannot call a sudden agitation a reflection of people’s long term aspiration. You see people voting for Mujib then supporting his assassination few years after, how fickle! Even couple of years earlier we saw masses supporting BD Army taking over the country from the corrupt politicians and yet within a year protesting to re-install those same corrupt politicians! Do you call this reflection of aspiration? Do you think it was people’s long aspiration that Sikkim was annexed by India? Deciding to break one’s own country is not a game. Following something just because mob or masses are following is not something to be proud of. Therefore, I reject your idea of following such process. I have no problem even if it’s only one person expressing such view as this website.

This whole excuse of “our hands were tied” is nothing but a way of denying our own ineptitude. Decades will pass away and so will water under a bridge- but we will always find that quote handy. This is a big topic and I do not want to elaborate on this. I would suggest you to go through the books on this very topic. You can delve in to much details of this “hands were tied” saga. I often wonder what a glorified (?) tale we have for our future generations- We will tell the tale of “our hands being tied down” even though we were the majority. Instead of working for the solutions to mend our country’s problem what did we come up with? Destruction. Even for that we the majority had to rely on a hostile neighbours opportunistic support. There’s also a valuable (?) lesson if our country ever falls in to crisis- the best way is to invite foreign vested interests and allow it to divide it further. Destruction not construction is the way forward (!).

As for Pakistan utterly failing it’s own people- I wrote earlier that in this context it has no significance whatsoever. We are not discussing about what a utopia Pakistan has become. Since you are at it, what point you are trying to convey? I can’t see that serving your argument. Do you think Bangladesh serving it’s own people right? What’s your solution for that? Following the lead of 1971, isn’t breaking Bangladesh in to even smaller parts the best solution? No need to worry about Pakistan being a buffer state, worry about Bangladesh serving as a proxy of India. I think as a nation we should stop throwing stone when we are living in a glass house.

I refuse even to accept the term “Pakistan collaborator” same way as one cannot call a citizen of BD offering his life for his country as a “Bangladesh collaborator”. The creation of such derogatory term “Pakistan collaborator” in itself goes to show the corrupt filthy ideology of the Mujib supporters. Do you think 25 years is enough time for a country to achieve everything? Please research in to pre 1947 era East Bengal. I know that as a nation we love to promote fantasy stories like “Sonar Bangla”. But pre 1947 East Bengal was a hinterland. You cannot demand proportional representation without attaining the capabilities. A quota system without merit is not an ideal solution for an already struggling country trying to rebuild itself. Just look at the consequences of wanton quota (so called freedom fighters quota) system of Sheikh Hasina’s government. This is also a disgraceful historical fact of our nation. We do not want to take any responsibilitie s, but think it’s our birth right to demand anything. Don’t you find this hypocritical to conspire against a country since it’s birth and yet to complain about not getting enough from it.

As for you mentioning the number of dead people- I don’t want to engage in to number game but whatever number you are coming up with has no factual basis. The situation of Bangladesh is such that as long as it is greater then 3 million, anyone can conjure up anything- with plenty of eager masses to blindly support those. Don’t get me wrong, any death is deplorable. Questioning about 3million or 3 lacs or whatever is not to lessen anything but to show the extent to which these people are prepared to go to falsify history and justify their disgraceful act. Majority of Bangladeshi history books doesn’t even mention the massacres committed by the pro-India thugs called “Mukti Bahini”.

Whether you like it or not, Pakistan is relevant whenever you are discussing the birth of Bangladesh. What do you mean by “….people of your ilk are holding on to it.” Holding on to what? The problem is you are still failing to understand just because “people of our ilk” are analysing the birth of Bangladesh with the different perspective, doesn’t necessarily mean we are holding on to Pakistan. In a way your quote is not dissimilar to those you claim to give you cringe! Let me just give you a small example about the relevance of analysing the 40 year old factor. If Santu Larma ever asks for separation based on the same ideology you are purporting then on which moral high ground you will choose to stand? That issue is not anachronistic. There is so much to learn from our past history of letting criminals to lead and allowing them to whip up a frenzy of nationalistic fervour based on narrow ethnic creed, giving heed to false propaganda sponsored by a vested foreign interest. I cannot comprehend why it’s so difficult for some to accept that we cannot progress by simply ignoring our wretched past.

Unless of course if you had meant Pakistan’s irrelevance to current Bangladeshi Politics; then I would have totally agreed. But say that to Awami Leaguers. Not a day passes without them keep dragging Pakistan and blaming them for everything from political violence, BDR massacre to corruption! To give credence to that proverbial excuse of “our hands were tied”- Pakistan will always be needed by them. That putrid ideology of Mujib is such that to remain in existence it will always require the fantasy presence of Pakistan.

Just for your information, 200 + years of independent Muslim Sultan’s you were talking about were not Bengalis; so in a way to feel proud of their achievements is a sacrilege to the very ideology of Mujib you are supporting! You complain about analysing something which happened 40 years ago where Bengalis had atleast some influence, yet you want to feel proud about something that happened 500 years ago and for which Bengalis had no part whatsoever.
Reply | Reply with quote | Quote
 
 
+1 # 2015-09-03 16:28
What an absolutely brilliant reply!
I'm new to this website myself.
I was completely enthralled by the writing of Syed Sajjad Hussain, please do try to publish his other works.
I will do my best to publicize this website. It is an excellent endeavour.
As a Bangladeshi, my sincere thanks to the creators and contributors of this website.
Reply | Reply with quote | Quote
 
 
+9 # 2013-03-22 15:38
লেখাটা পড়ে অনেক কেঁদেছি
অনেক কিছুই জানিনা, আমরা সত্য ইতিহাস জানতে চাই।
"তোমাদের সমস্ত গুনাহর কাফফারা মৃত্যুর দোর-গোড়ায় এসেও আমাদের দিতে হবে, সে আমরা জানি। তোমরা ধ্বংস করবে আমরা গড়ব। তোমরা বিদেশীদের দালালি করবে আর দালাল হিসেবে চিহ্নিত হব আমরা। যুগে যুগে ইসলামের সৈনিকরা সমগ্র জাতির ভুলের মাশুল দিয়েছে তাদের জীবন দিয়ে।'
যাযাকাল্লাহ খায়র
Reply | Reply with quote | Quote
 
 
+3 # 2013-10-14 10:29
আমি একটা জিনিস খেয়াল করেছি যে কওমী মাদ্রাসার ছাত্ররা ৭১ এ ইসলামের পক্ষে দাড়িয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক যে অনেককে দেখি কওমী মাদ্রাসার ছাত্রদের মুক্তিযোদ্ধা প্রমানের চেষ্ঠা করে। আলেম মুক্তিযোদ্ধার খোজে বই লেখে।
Reply | Reply with quote | Quote
 
 
+3 # 2015-04-13 08:17
আজই ১ম এই story of Bangladesh নামক সাইটি হঠাৎ পেলাম এবং “বাংলাদেশের ইসলামী দলগুলোর অপরাধ” লিখাটি পড়লাম এরপর আরো কিছু লিখার ভুমিকা পড়লাম (সময়ের অভাবে এগুতে পারিনি) নিজেকে মনে হল ইতিহাসের মহাসমূদ্রে ভাসমান ছোট্ট একটি কচুরীপানার সদ্য অংকুরিত পাতা। নতুন প্রজন্মকে অনেক কিছুই জানা উচিৎ এখান থেকে। কিন্তু ভয় হয় বর্তমান আওয়ামী+নাস্তিক সরকারের কবলে পড়ে যে কোন মুহুর্তে এই সাইট আমাদের নিকট থেকে হারিয়ে যেতে পারে যেমনিভাবে “সোনার বাংলা” ব্লগটিকে তারা হত্যা করেছে! যা-ই হোক আমার এ মন্তব্যের উদ্দেশ্য একটাই। আর তা হলো, যারা এ ব্লগটির লেখক ও পাঠক আপনারা যেন প্রতিটি লিখার ১টি কপি ডাউনলোড করে নিজের সংগ্রহে রেখে দেন। তাহলে নতুন প্রজন্মের নিকট এগুলো পৌঁছে দিতে সহজ হবে।- আমি সত্যবাদীদের সহযোদ্ধা। আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন যেন আমাদেরকে সত্য প্রকাশে দৃঢ় রাখেন। আমিন।
Reply | Reply with quote | Quote
 

Add comment


Security code
Refresh